অস্তিত্বের সংকটে আঞ্চলিক দল: বিজেপির ‘ডবল ইঞ্জিন’ ঝড়ে কি ফিকে হচ্ছে রাজনীতির চেনা ছক? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ তিন দশক ধরে আঞ্চলিক দলগুলোর যে একাধিপত্য ছিল, সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল তাতে বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে। ১৯৮৯ সাল থেকে শুরু হওয়া জোট রাজনীতির যুগে দিল্লি শাসনের চাবিকাঠি ছিল আঞ্চলিক শক্তিগুলোর হাতে। তবে ২০১৪ সালের পর থেকে বিজেপির উত্থান এবং মোদী-ম্যাজিকের প্রভাবে ম্লান হতে শুরু করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নবীন পট্টনায়ক বা অখিলেশ যাদবদের মতো এক সময়ের দাপুটে নেতাদের প্রভাব। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার মতো রাজ্যেও বিজেপির আধিপত্য আঞ্চলিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
পরিবর্তিত ভোটার ও প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের মনস্তত্ত্বে এক বিশাল বিবর্তন ঘটেছে। বর্তমানের উচ্চাভিলাষী তরুণ প্রজন্ম কেবল আঞ্চলিক আবেগ বা সামাজিক কল্যাণের নিরিখে ভোট দিচ্ছে না; তারা বৃহত্তর উন্নয়ন ও সামাজিক উন্নতির পথে হাঁটতে বেশি আগ্রহী। এছাড়া বিজেপির এই জয়যাত্রার নেপথ্যে রয়েছে কর্পোরেট ঘরানার কর্মপদ্ধতি এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে যে ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে, তার মোকাবিলা করতে আঞ্চলিক দলগুলো হিমশিম খাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিজেপির নির্বাচনী কৌশলের কাছে আঞ্চলিক দলগুলোর পুরনো সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে পড়ছে।
আঞ্চলিক রাজনীতির ভবিষ্যৎ ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই
বিজেপির এই প্রবল আধিপত্যের মুখে আঞ্চলিক দলগুলোর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিজেপি যেভাবে ছোট দলগুলোকে নিজেদের জোটে টেনে নিয়ে পরবর্তীতে তাদের নিজস্ব সত্তা বিলীন করে দিচ্ছে, তা অনেকের কাছেই বিপদের সংকেত। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হলে কেবল জোটবদ্ধ হওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং জনআন্দোলনের চিরাচরিত পথে ফিরতে হবে। জনগণের দৈনন্দিন সমস্যা ও স্থানীয় ইস্যুগুলোকে সামনে রেখে নতুন করে আন্দোলন গড়ে তোলা এবং বিজেপির প্রযুক্তিগত প্রচারের পাল্টা কৌশল সাজানোই এখন আঞ্চলিক শক্তির টিকে থাকার একমাত্র পথ। অন্যথায়, ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের স্লোগানের নিচে আঞ্চলিক পরিচয় পুরোপুরি ঢাকা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল।
