নিজেদের ‘দায়িত্বশীল রাষ্ট্র’ বলে দাবি পাকিস্তানের, ইরান-আমেরিকা সংঘাতে মধ্যস্থতার কৃতিত্ব নিলেন শাহবাজ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ইসলামাবাদ: পাকিস্তান এখন আর কেবল নিজের প্রতিরক্ষা নিয়ে ভাবছে না, বরং বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার অন্যতম এক ‘গ্যারান্টার’ এবং দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে গত বছরের চার দিনব্যাপী সামরিক সংঘাতের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় এই দাবি করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। গত বছর ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’ এবং তার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের পাল্টা জবাবের ঘটনাকে ইসলামাবাদ ‘মারকা-এ-হক’ হিসেবে অভিহিত করে আসছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা
গত বছরের মে মাসে ভারতের বিমান হামলার জবাবে পাকিস্তানের স্থল, আকাশ ও সাইবার বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের তাৎক্ষণিক এবং যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই সামরিক তৎপরতা পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং জাতীয় সংকল্পকে বিশ্বদরবারে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ মে উভয় দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে হটলাইন আলোচনার মাধ্যমে সেই উত্তেজনা প্রশমিত হয়েছিল।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বৈশ্বিক ভূমিকা
নিজের বার্তায় শাহবাজ শরিফ বিশেষভাবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা নিরসনে পাকিস্তানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত বন্ধে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা এবং সহিংসতা অবসানের প্রচেষ্টাকে সারাবিশ্ব ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, পাকিস্তান এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃত, যারা বৈশ্বিক সংকট সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
শান্তি ও স্থিতিশীলতার ভবিষ্যৎ
দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি বজায় রাখতে কাশ্মীর ইস্যুর সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শাহবাজ শরিফ। তিনি জানান, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তার অবস্থান স্পষ্ট রেখে সীমান্ত সুরক্ষায় সদা সতর্ক থাকবে। একইসাথে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে পাকিস্তান তার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, ‘মারকা-এ-হক’ পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে এক অবিস্মরণীয় প্রতীক হয়ে থাকবে।
