বিশ্বকাপে খেলতে আমেরিকার কাছে ১০ শর্ত ইরানের! মানলেই মিলবে রফাসূত্র? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আগামী ১১ জুন থেকে আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। তবে এই মেগা টুর্নামেন্টে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘস্থায়ী ধোঁয়াশা কাটার ইঙ্গিত মিলেছে। ইরান বিশ্বকাপে অংশ নিতে নীতিগতভাবে রাজি হলেও আয়োজক দেশগুলোর সামনে ১০টি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির ফুটবল ফেডারেশন স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের জাতীয় সংস্কৃতির সুরক্ষা এবং ফুটবলারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেই কেবল তারা মাঠে নামবে।
সংঘাতের আবহ ও ভিসা জটিলতা
ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার মূলে রয়েছে আমেরিকার সঙ্গে তাদের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা। সম্প্রতি ইরান ফুটবল সংস্থার প্রধান মেহদি তাজকে কানাডায় প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়। ইরানের সশস্ত্র সংগঠন ‘ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কপস’-এর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ইরান তাদের শক্ত অবস্থানের কথা জানান দিয়েছে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেহদি তাজ জানিয়েছেন, দেশের সংস্কৃতি ও আস্থার প্রশ্নে তারা কোনো আপস করবেন না।
নিরাপত্তা ও সম্মানের ১০ শর্ত
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘জি’-তে ইরানকে বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড ও মিশরের মোকাবিলা করতে হবে। তাদের সবকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে। নিজেদের আপত্তির কথা জানিয়ে ইরান যে ১০টি শর্ত দিয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- জাতীয় দল ও সাপোর্ট স্টাফদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীতের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন।
- ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং বিমানবন্দর থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা।
- খেলোয়াড়দের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ না করা।
এদিকে আমেরিকার সেক্রেটারি মার্কো রুবিয়ো জানিয়েছেন, ফুটবলারদের তারা স্বাগত জানাতে প্রস্তুত থাকলেও বিতর্কিত সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কোনো কর্মকর্তাকে সে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। আয়োজক দেশগুলো ইরানের এই শর্তগুলো কীভাবে গ্রহণ করে, তার ওপরই নির্ভর করছে ২০২৬ বিশ্বকাপে এশিয়ার এই পরাশক্তির চূড়ান্ত অংশগ্রহণ। রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক এই লড়াই যদি না মেটে, তবে মাঠের ফুটবলের আগেই বড় কোনো সংকটের মুখে পড়তে পারে আসন্ন বিশ্ব আসর।
