জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থার আইনি লড়াইয়ে এবার দিল্লি হাইকোর্ট! – এবেলা

জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থার আইনি লড়াইয়ে এবার দিল্লি হাইকোর্ট! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দেশজুড়ে জরুরি সতর্কতা বার্তা পাঠানোর আধুনিক প্রযুক্তি ‘সেল ব্রডকাস্ট সিস্টেম’ নিয়ে শুরু হয়েছে বড় ধরনের আইনি লড়াই। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ‘সেন্টার ফর ডেভলপমেন্ট অফ টেলিম্যাটিক্স’ বা সি-ডটকে (C-DOT) কোনো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই এই প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়ার কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে জার্মান প্রযুক্তি সংস্থা ‘ইউটিমাকো টেকনোলজিস’। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি হাইকোর্ট উভয় পক্ষকে তাদের সংক্ষিপ্ত লিখিত যুক্তি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জাতীয় জরুরি অবস্থায় মোবাইল টাওয়ারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকার সকল মোবাইল ফোনে মুহূর্তের মধ্যে সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই সেল ব্রডকাস্ট প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর। ইতিপূর্বে সি-ডটের সহায়তায় সরকার এই ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক প্রয়োগও করেছে। তবে উন্মুক্ত টেন্ডার না ডেকে কেন শুধুমাত্র একটি সরকারি সংস্থাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হলো, তা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক।

জাতীয় নিরাপত্তা বনাম স্বচ্ছতার বিতর্ক

শুনানির সময় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয় যে, এই প্রকল্পটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও জনস্বার্থের সঙ্গে জড়িত একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও কৌশলগত সম্পদ। তাই নিরাপত্তার স্বার্থেই বেসরকারি সংস্থার পরিবর্তে দেশীয় সরকারি সংস্থার মাধ্যমে এটি পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার আরও জানায়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমেই সি-ডটকে এই কাজের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইউটিমাকো টেকনোলজিসের দাবি, সরকারকে অবশ্যই ব্যাখ্যা করতে হবে কেন কোনো বৈশ্বিক দরপত্র ছাড়াই সি-ডটকে বেছে নেওয়া হলো। তাদের আইনজীবী এই সিদ্ধান্তকে ‘স্বেচ্ছাচারী ও বৈষম্যমূলক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। আদালতও সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে, নথিপত্রে এই প্রকল্পটিকে ‘কৌশলগত জাতীয় সম্পদ’ হিসেবে চিহ্নিত করার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য রয়েছে কি না।

প্রকল্পের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই মামলার রায়ের ওপর নির্ভর করছে ভারতের জরুরি সতর্কবার্তা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ। আদালত যদি কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে, তবে সি-ডটের মাধ্যমেই দ্রুত এই পরিষেবা চালু হবে। অন্যথায়, নতুন করে প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার প্রক্রিয়ার পথে হাঁটতে হতে পারে সরকারকে, যা প্রকল্পের বাস্তবায়নকে কিছুটা পিছিয়ে দিতে পারে। প্রযুক্তি ও টেলিকম বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যেমন দ্রুত এই ব্যবস্থা প্রয়োজন, তেমনি সরকারি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা বজায় রাখাও সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লি হাইকোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *