পুরুলিয়ায় রাতারাতি ভোলবদল! শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তৃণমূল নেতাদের পোস্টার, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের পরেই পুরুলিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণ আমূল বদলে যেতে শুরু করেছে। জেলার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় রাতারাতি একাংশ তৃণমূল নেতা ও কর্মীর ভোলবদল ঘিরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বিজেপি প্রভাবিত শ্রমিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে লাগানো একাধিক পোস্টার ও ব্যানারকে কেন্দ্র করে দানা বেঁধেছে নতুন বিতর্ক।
তৃণমূল নেতাদের ছবি সংবলিত পোস্টার ও উত্তেজনা
পুরুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দেখা যায়, ভারতীয় জনতা মজদুর সঙ্ঘের নামে বেশ কিছু পোস্টার ও ব্যানার লাগানো হয়েছে। বিষ্ময়কর বিষয় হলো, সেই সব পোস্টারে নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি নাম ও ছবি রয়েছে স্থানীয় একাধিক পরিচিত তৃণমূল নেতার। এই খবর জানাজানি হতেই এলাকায় বিজেপি কর্মীদের ভিড় জমে যায় এবং উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলা বিজেপির পদাধিকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। মূল সংগঠনের নেতৃত্বকে অন্ধকারে রেখে এই ধরনের পোস্টার লাগানোয় ক্ষুব্ধ বিজেপি কর্মীরা সেই ব্যানারগুলো ছিঁড়ে ফেলেন।
‘পিঠ বাঁচাতে’ আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর আইনি পদক্ষেপ বা রাজনৈতিক রোষ থেকে বাঁচতেই তৃণমূলের একাংশ নেতা-কর্মী এখন বিজেপির ছাতার তলায় আশ্রয় খুঁজছেন। একে ‘পিঠ বাঁচানোর রাজনীতি’ হিসেবেই দেখছেন গেরুয়া শিবিরের একাংশ। বিজেপি জেলা নেতৃত্বের স্পষ্ট বার্তা, মূল নেতৃত্বকে না জানিয়ে বা অনুমোদনহীনভাবে কাউকে দলে জায়গা দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, এই নজিরবিহীন ভোলবদল এবং পোস্টার বিতর্ক নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রভাব ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা
এই ঘটনার ফলে পুরুলিয়ার শ্রমিক মহলে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার হাতবদল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে যে দলত্যাগের প্রবণতা দেখা দিচ্ছে, তা জেলার সাংগঠনিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এই পোস্টার বিতর্ক কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের ঘরোয়া ভাঙন এবং বিজেপির অন্দরে নবাগতদের গ্রহণ করা নিয়ে তৈরি হওয়া দ্বন্দ্বেরই প্রতিফলন।
