বড় তথ্য ফাঁস! বঙ্গে বিজেপির জয়ের ব্যবধান আর বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা কি একই? বিস্ফোরক শশী থারুর – এবেলা

বড় তথ্য ফাঁস! বঙ্গে বিজেপির জয়ের ব্যবধান আর বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা কি একই? বিস্ফোরক শশী থারুর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে এবার এক বিস্ফোরক বিশ্লেষণ সামনে আনলেন কংগ্রেস সাংসদ শশি থারুর। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফলে নির্ধারক ভূমিকা পালন করেছে। স্ট্যানফোর্ড ইন্ডিয়া কনফারেন্সে দেওয়া এক বক্তব্যে থারুর তথ্য দিয়ে দেখিয়েছেন যে, যোগ্য ভোটারদের বড় একটি অংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারায় জয়ের ব্যবধানে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।

ভোটার তালিকা থেকে ৯১ লক্ষ নাম বাদ

থারুরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ৩৪ লক্ষ মানুষ নিজেদের ‘জীবিত’ এবং ‘বৈধ ভোটার’ দাবি করে পুনরায় অন্তর্ভুক্তির আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু আইনি জটিলতা এবং ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ভোটের আগে মাত্র কয়েকশ আবেদনের নিষ্পত্তি সম্ভব হয়। ফলে প্রায় ৩১ থেকে ৩২ লক্ষ মানুষ আবেদন করেও শেষ পর্যন্ত ভোট দিতে পারেননি। থারুর মনে করেন, এই বিপুল সংখ্যক ভোটার যদি বুথে পৌঁছাতে পারতেন, তবে নির্বাচনের চিত্র অন্যরকম হতে পারত।

জয়ের ব্যবধান ও অমীমাংসিত আপিল

নির্বাচনী পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে থারুর একটি গাণিতিক সমীকরণ তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়ের ব্যবধান ছিল প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটের কাছাকাছি। আশ্চর্যজনকভাবে, ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের সংখ্যাও প্রায় ৩১-৩২ লক্ষ। থারুর প্রশ্ন তুলেছেন, এই যোগ্য ভোটাররা যদি ভোট দিতে পারতেন, তবে কি ফলাফল একই থাকত? এই প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি ‘সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক’ বলতেও তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন। যদিও ভুয়া বা অস্তিত্বহীন ভোটার বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন, তবে প্রকৃত ভোটারদের অধিকার খর্ব হওয়া নিয়ে সরব হয়েছেন এই বর্ষীয়ান নেতা।

কেরলেও প্রভাব ফেলেছে এই প্রক্রিয়া

শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ নয়, নিজের রাজ্য কেরলের উদাহরণও টেনেছেন থারুর। তিনি দাবি করেন, কেরলে ভোটার তালিকা থেকে দ্বৈত নাম বা ভুয়া ভোটার বাদ দেওয়ার ফলে কংগ্রেস জোট লাভবান হয়েছে। সেখানে অতীতে রাজনৈতিক কারচুপির মাধ্যমে একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার তালিকায় ঢোকানো হতো বলে তাঁর অভিযোগ। তবে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি যেভাবে কাজ করেছে, তাতে একটি বিশেষ পক্ষ সুবিধা পেয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে তাঁর ধারণা। এই প্রশাসনিক জটিলতা আগামী দিনের নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *