হরমুজ প্রণালীতে চরম হুঁশিয়ারি ইরানের, বিপাকে পড়তে পারে শত্রু দেশের জাহাজ!

হরমুজ প্রণালীতে চরম হুঁশিয়ারি ইরানের, বিপাকে পড়তে পারে শত্রু দেশের জাহাজ!

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান। সে দেশের সামরিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, কোনো দেশ যদি আমেরিকার চাপানো ইরান-বিরোধী নিষেধাজ্ঞা মেনে চলে, তবে তাদের পণ্যবাহী জাহাজ এই প্রণালী পারাপারের সময় কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হবে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা তাসনিন-কে উদ্ধৃত করে রবিবার এই চরম বার্তা দিয়েছেন ইরানি সেনার মুখপাত্র মহম্মদ আক্রমিনিয়া।

নিষেধাজ্ঞা মানলে কড়া পদক্ষেপ

মুখপাত্র আক্রমিনিয়া সাফ জানিয়েছেন, ইরান-বিরোধী আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা যারা সমর্থন করবে বা মেনে চলবে, তাদের জন্য হরমুজ প্রণালীর পথ আর মসৃণ থাকবে না। ইরান মনে করে, এই জলপথের ওপর তাদের সার্বভৌম অধিকার রয়েছে এবং আঞ্চলিক স্বার্থবিরোধী কোনো পদক্ষেপ তারা বরদাস্ত করবে না। বিশেষ করে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোর জাহাজ চলাচল এই হুঁশিয়ারির ফলে বড়সড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইরানি পার্লামেন্টে নয়া বিলের খসড়া

কেবল মৌখিক হুঁশিয়ারি নয়, আইনি পথেও আটঘাট বাঁধছে তেহরান। জানা গিয়েছে, বর্তমানে ইরানি পার্লামেন্টে একটি বিশেষ বিলের খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। এই বিলে সুনির্দিষ্টভাবে ‘শত্রু দেশ’-এর জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা নিয়ন্ত্রণ করার আইনি সংস্থান রাখা হচ্ছে। বিলটি পাস হলে ইরানি নৌবাহিনী ওই জলপথে আরও বেশি ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ পাবে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাবের আশঙ্কা

বিশ্বের মোট খনিজ তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে উত্তজনা বাড়লে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকার অর্থনৈতিক চাপের পাল্টা হিসেবে ইরান এখন এই কৌশলগত জলপথকে হাতিয়ার করতে চাইছে। সামরিক উত্তেজনার এই নতুন মাত্রা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। মূলত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এই লাইফলাইনকে নিয়ন্ত্রণের হুমকি দিয়ে পশ্চিমী দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করাই তেহরানের প্রধান লক্ষ্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *