ইরান-আমেরিকা সংঘাতের মাসুল দিচ্ছে মধ্যবিত্ত? ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ১০৫ ডলার পার! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ধরনের উথাল-পাথাল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া শান্তি প্রস্তাব ইরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করার পর সোমবার তেলের দাম এক ধাক্কায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের এই প্রতিক্রিয়াকে ‘একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়’ বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানি তেলের সরবরাহে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যস্থতা ভেস্তে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার ভয়েই বিনিয়োগকারীরা অপরিশোধিত তেল মজুদ করতে শুরু করেছেন।
ভারতের শেয়ার বাজারে পতনের আশঙ্কা
আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের এই আকাশচুম্বী দামের আঁচ শীঘ্রই ভারতের ওপর পড়তে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক বাজারে নিফটির প্রাথমিক ট্রেডিং সেশনে যে সংকেত পাওয়া গেছে, তাতে দালালি স্ট্রিটে বড় ধরনের ধসের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশ, যারা জ্বালানি তেলের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য ব্যারেল প্রতি ১০৫ ডলারের এই মূল্যবৃদ্ধি উদ্বেগজনক।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশীয় বাজারে পরিবহণ খরচ ও মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। একইসঙ্গে টাকার মূল্যের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে, যা সামগ্রিকভাবে ভারতের অর্থনীতি ও শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য নেতিবাচক বার্তা বয়ে আনতে পারে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আসন্ন দিনগুলোতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
