আরজি কর কাণ্ড ও মহিলা নিরাপত্তা নিয়ে সোমবার মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক, সুবিচারের আশায় অভয়ার মা

রাজ্যের নবগঠিত বিজেপি সরকারের দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক হতে চলেছে আগামী সোমবার। প্রথম দিনের ঠাসা কর্মসূচির পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করা এবং নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করা। আগামী সপ্তাহের এই বৈঠকে মূলত ‘আরজি কর কাণ্ড’, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং রাজ্যের সার্বিক মহিলা নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলোচিত হবে।
তদন্তে গতি ও সুবিচারের প্রতিশ্রুতি
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন যে, আরজি কর হাসপাতালে ঘটে যাওয়া নারকীয় ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে চায় তাঁর সরকার। এই মামলার তদন্ত যাতে কোনোভাবে প্রভাবিত না হয় এবং দোষীরা যাতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়, তা নিশ্চিত করতেই মন্ত্রিসভার এই বিশেষ উদ্যোগ। নতুন সরকারের এই পদক্ষেপে আশার আলো দেখছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ভুক্তভোগী পরিবার।
বিধায়ক রত্না দেবনাথের লড়াই ও প্রত্যাশা
আরজি করের নির্যাতিতা ‘অভয়া’-র মা রত্না দেবনাথ, যিনি মেয়ের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়ার শপথ নিয়ে এবার জলহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে লড়াই করেছিলেন এবং জয়ী হয়েছেন, তিনি এই বৈঠকে বিশেষ নজর রাখছেন। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এখন তাঁর কাঁধে বড় দায়িত্ব। রত্না দেবনাথের আশা, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার এই তদন্তকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং পর্দার আড়ালে থাকা রাঘববোয়ালদের মুখোশ খুলে দেবে।
মহিলা নিরাপত্তায় নতুন রোডম্যাপ
কেবল আরজি কর নয়, গোটা রাজ্যে মহিলাদের ওপর বাড়তে থাকা অপরাধ দমনে কঠোর আইন ও প্রশাসনিক নজরদারির বিষয়েও সোমবারের বৈঠকে বড় কোনো ঘোষণা আসতে পারে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে জলহাটির বিধায়ক তথা অভয়ার মা জানিয়েছেন, তিনি বিশ্বাস করেন এই সরকার মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক গুরুত্ব
ক্ষমতায় আসার পর দ্রুততার সঙ্গে আরজি করের মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী রাজনৈতিকভাবেও একটি বড় বার্তা দিতে চাইলেন। সোমবারের এই বৈঠকের দিকে এখন তাকিয়ে আছে গোটা বাংলা, বিশেষ করে সেইসব মানুষ যাঁরা মাসের পর মাস রাজপথে নেমে অভয়ার জন্য বিচার চেয়েছিলেন। মূলত অপরাধীদের সাজা প্রদান এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ফেরানোই এখন নবান্নের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
