‘ভয় OUT, ভরসা IN’, মমতাকে বিঁধে নবান্নে নতুন জমানার বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

‘ভয় OUT, ভরসা IN’, মমতাকে বিঁধে নবান্নে নতুন জমানার বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক কেন্দ্র নবান্নে নিজের প্রথম কর্মদিবসেই নাম না করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র কটাক্ষ করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এক নতুন প্রশাসনিক দর্শনের কথা ঘোষণা করেন। শুভেন্দুর কথায়, রাজ্যে এখন থেকে ব্যক্তির ইচ্ছা নয়, বরং আদর্শ ও নীতির শাসন চলবে।

‘আমিত্ব’ বনাম ‘নীতি’

রাজ্যের পূর্বতন সরকারের কাজের ধরণের সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এই সরকার ‘আমিত্বে’ চলে না, নীতিতে চলে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না নিলেও শুভেন্দু কার্যত বোঝাতে চেয়েছেন যে, আগে প্রশাসন একজনের অঙ্গুলিহেলনে চলত, কিন্তু বর্তমান বিজেপি সরকার নিয়ম মেনে পরিচালিত হবে। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা আনাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রে ভরসা

নিজের বক্তব্যের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি বিশেষ স্লোগানকে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’ বার্তা দিয়েছিলেন। আমরা সেই সংকল্পেই কাজ করব।” শুভেন্দুর এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ গত কয়েক বছরে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং মানুষের মধ্যে থাকা কথিত ‘ভীতি’ নিয়ে বিজেপি বারবার সরব হয়েছে। সেই ভয়ের পরিবেশ কাটিয়ে মানুষের মনে আস্থা ফেরানোই যে নতুন সরকারের প্রথম কাজ, তা এদিন স্পষ্ট করে দেন তিনি।

আস্থা, নিরাপত্তা ও উন্নয়নে জোর

নতুন সরকারের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলোও এদিন নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি জানান, মানুষের আস্থা অর্জন করা, প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সার্বিক উন্নয়নই হবে তাঁর সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয়। বিশেষ করে সরকারি নিয়োগ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের প্রশাসনিক কাজ—সবক্ষেত্রেই ‘ভরসা’ ফিরিয়ে আনাই এখন নবান্নের মূল মন্ত্র।

রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া

মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘ভয় বনাম ভরসা’ তত্ত্ব নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপির দাবি, গত এক দশকে মানুষ যে আতঙ্কের মধ্যে ছিল, তা দূর করতেই এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, শুভেন্দুর এই ‘খোঁচা’ নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি। তবে নবান্নে প্রথম দিনেই শুভেন্দু যেভাবে তাঁর প্রশাসনিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করলেন, তাতে বোঝা যাচ্ছে যে তিনি পূর্বতন জমানার কাজের ধরণ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা পথে হাঁটতে চান। মূলত সংকল্প ও উন্নয়নকে হাতিয়ার করেই ‘নতুন বাংলা’ গড়ার ডাক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *