অভিষেকের ‘রাজকীয়’ নিরাপত্তায় ইতি, জেড প্লাস হারিয়ে এবার সাধারণ সাংসদ ডায়মন্ড হারবারের ‘খোকা’! – এবেলা

অভিষেকের ‘রাজকীয়’ নিরাপত্তায় ইতি, জেড প্লাস হারিয়ে এবার সাধারণ সাংসদ ডায়মন্ড হারবারের ‘খোকা’! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথেই প্রশাসনিক খোলনলচে বদলে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সোমবার নবান্নে দায়িত্ব গ্রহণ করেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা বলয়ে বড়সড় কাটছাঁট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের প্রধান লক্ষ্য হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আর ‘জেড প্লাস’ (Z+) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাবেন না। একজন সাধারণ সাংসদ হিসেবে সরকারি বিধি মেনে যেটুকু সুরক্ষা পাওয়ার কথা, কেবল সেটুকুই তাঁর জন্য বরাদ্দ থাকবে।

প্রশাসনিক সংস্কার ও অর্থের অপচয় রোধ

সোমবার বিকেলে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, কোনো সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা না থাকলে কোনো রাজনৈতিক নেতাকে অহেতুক বিশাল নিরাপত্তা বাহিনী দেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, ব্যক্তিগত আভিজাত্য বা ‘স্টেটাস’ প্রদর্শনের জন্য জনগণের করের টাকা অপচয় করা সমীচীন নয়। এর পরপরই নবান্ন থেকে অভিষেকের পাইলট কার, কমান্ডো বাহিনী এবং দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভোগ করা বিশেষ নিরাপত্তা প্রত্যাহারের নির্দেশ জারি করা হয়।

নিরাপত্তা বলয় থেকে বিশেষ ইউনিটের বিদায়

অভিষেকের নিরাপত্তা ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া অবশ্য কয়েকদিন আগেই শুরু হয়েছিল। তাঁর বাসভবন ও অফিসের বাইরের পুলিশ পোস্ট এবং কলকাতা পুলিশের বিশেষ স্ক্যানার মেশিন ইতিপূর্বেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এবার রাজ্য পুলিশের স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (SSU)-র একটি বড় অংশকেও তাঁর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে। গত ১০ বছর ধরে তাঁর যাতায়াতের পথে যে কড়া পুলিশি পাহারা ও রাস্তা আটকে রাখার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, এই সিদ্ধান্তের ফলে তার অবসান ঘটতে চলেছে।

রাজনৈতিক প্রভাব ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপ যেমন প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ, তেমনই এর পেছনে রাজনৈতিক সমীকরণও বিদ্যমান। একদা তৃণমূলের অন্দরমহলেই অভিষেকের এই বিশাল নিরাপত্তা বলয় নিয়ে চাপা অসন্তোষ ছিল। নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে বিরোধী শিবিরের প্রতি কঠোর বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে আগের মেয়াদে বিরোধী নেতাদের প্রতি যে রাজনৈতিক আচরণের অভিযোগ ছিল, তাকে কেন্দ্র করে এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণ সাংসদ হিসেবে এখন থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা সীমাবদ্ধ থাকবে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্ধারিত গাইডলাইনের ওপর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *