আমেরিকার পিঠে পাকিস্তানের ছুরি! ইরানের যুদ্ধবিমানকে গোপনে আশ্রয় দেওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন মোড় নিয়েছে পাকিস্তান ও আমেরিকার মধ্যকার সম্পর্ক। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘সিবিএস নিউজ’-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্কিন বিমান হামলা থেকে বাঁচাতে ইরানের বেশ কিছু বিমানকে নিজেদের এয়ারফিল্ডে আশ্রয় দিয়েছে পাকিস্তান। একই সময়ে ইরানের সিজফায়ার বা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে ‘বোকামি’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ঘটনার নেপথ্যে পাকিস্তানের রহস্যময় ভূমিকা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করার দাবি করলেও নেপথ্যে তেহরানকে সামরিক সুরক্ষা দিচ্ছে ইসলামাবাদ। গত এপ্রিলে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই ইরানের বেশ কিছু গোয়েন্দা ও নজরদারি বিমান পাকিস্তানের ‘নূর খান’ বিমানঘাঁটিতে পাঠানো হয়। শুধু পাকিস্তানই নয়, নিজেদের বেসামরিক বিমানগুলো রক্ষা করতে প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানের সাহায্যও নিয়েছে ইরান। যদিও পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এই দাবি অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের মতে, জনবহুল এলাকায় অবস্থিত এই বিমানঘাঁটিতে বিমান লুকিয়ে রাখা আসাম্ভব।
মার্কিন হুঁশিয়ারি ও বৈশ্বিক প্রভাব
পাকিস্তানের এই পদক্ষেপে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এই প্রতিবেদন সত্য হলে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের যোগ্যতার পুনর্মূল্যায়ন প্রয়োজন। এদিকে ইরান যদি তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ না করে, তবে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই দ্বিমুখী অবস্থান আমেরিকার সঙ্গে তাদের দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে। অন্যদিকে, ইরানের প্রতি পাকিস্তানের এই প্রচ্ছন্ন সমর্থন মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে, যার প্রভাব পড়তে পারে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতেও।
