“বিজেপির ‘তৃণমূলিকরণ’ সইব না, দরকার হলে ইস্তফা দেব!”—নব্যদের চরম হুঁশিয়ারি শমীক ভট্টাচার্যের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্য বিজেপির অন্দরে নব্য বনাম আদি লড়াই এবার এক ভিন্ন মাত্রা পেল। দলের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে এবং বিশৃঙ্খলা রুখতে নিজের দলের কর্মীদের বিরুদ্ধেই কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বিজেপির ‘তৃণমূলিকরণ’ তিনি কোনোভাবেই মেনে নেবেন না এবং এই আদর্শ রক্ষায় প্রয়োজনে সভাপতির পদ ত্যাগ করতেও তিনি প্রস্তুত।
শুদ্ধিকরণের ডাক ও নব্যদের হুঁশিয়ারি
তৃণমূল থেকে আসা একদল নেতার দাপট এবং তাঁদের প্রভাবে দলের সংস্কৃতি নষ্ট হওয়া নিয়ে সরব হয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। দলের পুরনো কর্মীদের সম্মান রক্ষায় জোর দিয়ে তিনি জানান, যারা আশির বা নব্বইয়ের দশক থেকে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে রক্ত-ঘাম দিয়ে সংগঠন তৈরি করেছেন, দল আদতে তাঁদেরই। সাম্প্রতিক সময়ে গেরুয়া আবির মেখে যারা বাইক মিছিল বা অন্যান্য অসভ্যতা করছে, তাদের কঠোর বার্তা দিয়ে সভাপতি জানান, তৃণমূলী সংস্কৃতি বহনকারী কাউকে বিজেপিতে বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে এই সুবিধাবাদীদের দল থেকে বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
আইনশৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক কঠোরতা
বিশৃঙ্খলাকারীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে শমীক ভট্টাচার্য পুলিশ ও প্রশাসনকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি সাফ জানান, বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে কেউ যদি হামলা বা অশান্তি চালায়, তবে দল তার দায় নেবে না। এমনকি কোনো বড় নেতার মদত থাকলেও পুলিশকে লাঠিচার্জ ও গ্রেপ্তারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, নাম ও ছবি পাওয়ার পরেও যদি বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারেন, তবে পদে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার তাঁর নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শমীক ভট্টাচার্যের এই কঠোর অবস্থান দলের অন্দরে একটি ‘শুদ্ধিকরণ’ প্রক্রিয়া শুরুর ইঙ্গিত। মূলত জনমানসে বিজেপির স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে এবং পুরনো কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমন করতেই তিনি এই কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটছেন। এই হুঁশিয়ারির ফলে দলের ভেতরের সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।
