শিক্ষক থেকে ছাত্র, তারপর এক সফল পিতা! মেয়ের অনুপ্রেরণায় অসাধ্য সাধন করলেন দুধু মিয়া – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
চাকরি হারানোর যন্ত্রণা আর সামাজিক গ্লানি মুছে ফেলে অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ত্রিপুরার সিপাহীজলার বাসিন্দা দুধু মিয়া। দীর্ঘ বিরতির পর ৪৫ বছর বয়সে এসে নিজের মেয়ের সঙ্গে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। গত শুক্রবার প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, বাবা ও মেয়ে দুজনেই সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক বুক চাপা কষ্ট আর হারানো অধিকার ফিরে পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা।
চাকরি হারানো থেকে নতুন লড়াইয়ের শুরু
দুধু মিয়া সিপাহীজলা জেলার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। কিন্তু ২০১৪ সালে ত্রিপুরা হাইকোর্ট এবং পরবর্তীতে ২০২০ সালে সুপ্রিম কোর্টের এক ঐতিহাসিক রায়ে কয়েক হাজার শিক্ষকের সঙ্গে তাঁরও চাকরি চলে যায়। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিল করে এসব শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। মাধ্যমিক পাশ দুধু মিয়া হঠাৎ করেই কর্মহীন হয়ে পড়েন। টানাটানির সংসার চালাতে গত কয়েক বছর ধরে তিনি দিনমজুর বা ঠিকা শ্রমিকের কাজ বেছে নিতে বাধ্য হন। তবে অভাবের মাঝেও মেয়ের পড়াশোনা থামতে দেননি তিনি।
শিক্ষক যখন নিজের সন্তান
নিজের আসাম্পূর্ণ শিক্ষাগত যোগ্যতাই যে কর্মজীবনের পথে প্রধান বাধা, তা বুঝতে পেরেছিলেন দুধু মিয়া। বড় হয়ে ওঠা মেয়ে রুমাই বাবাকে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করার সাহস জোগায়। মেয়ের অনুপ্রেরণায় স্থানীয় একটি স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর শুরু হয় অন্যরকম এক শিক্ষাজীবন। বাড়িতে মেয়েই হয়ে ওঠেন বাবার প্রধান শিক্ষিকা। দিনভর কঠোর পরিশ্রমের পর রাতে মেয়ের কাছে নিয়ম করে পড়াশোনা করতেন ৪৫ বছর বয়সী এই লড়াকু বাবা।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও সামাজিক বার্তা
ত্রিপুরার উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি ধনঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায় এই সাফল্যে বাবা-মেয়ে উভয়কেই অভিনন্দন জানিয়েছেন। শিক্ষা দপ্তরের মতে, দুধু মিয়ার এই লড়াই সমাজের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। তবে দুধু মিয়ার মূল লক্ষ্য এখন হারানো পেশায় ফেরা। প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করায় এখন তিনি আইনি বা প্রশাসনিকভাবে নিজের চাকরির দাবি পুনরায় জানাতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই জয় কেবল একটি পরীক্ষার ফল নয়, বরং এক বাবার হার না মানা মানসিকতা এবং মেয়ের প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য প্রতিফলন।
