তামিলনাড়ুতে বিজয়ের ‘মাস্টারস্ট্রোক’! ৩ দিনেই উল্টে গেল রাজনীতির পাশা, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতল স্পিকার পদ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের মাত্র সাত দিনের মধ্যে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিলেন থালাপথি বিজয়। গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর ১০৭টি আসন নিয়ে বিজয়ের দল ‘তামিলগা ভেত্রি কষগম’ (টিভিকে) যখন সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে দূরে ছিল, তখন অনেকেরই ধারণা ছিল সরকার গঠন সহজ হবে না। কিন্তু চমকপ্রদ কৌশলে গত ১০ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এবার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদেও নিজেদের প্রার্থীদের বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতিয়ে আনলেন তিনি। মঙ্গলবার টিভিকে বিধায়ক জেসিডি প্রভাকর বিধানসভার অধ্যক্ষ এবং এম. রবিশঙ্কর উপাধ্যক্ষ হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হয়েছেন।
শত্রু শিবিরে বিজয় এবং রাজনৈতিক সমঝোতা
স্পিকার পদে জয় নিশ্চিত করতে বিজয় যে কৌশল অবলম্বন করেছেন, তা ভারতের বর্তমান রাজনীতিতে বিরল। সরকার পতনের ঝুঁকি এড়াতে বিজয় সরাসরি তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ডিএমকে প্রধান ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিনের বাসভবনে পৌঁছে যান। সেখানে উদয়নিধি স্ট্যালিন তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং স্ট্যালিনের সাথে দীর্ঘ বৈঠকের পর ডিএমকে স্পিকার পদে কোনো প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এক সময়ের কট্টর বিরোধী শিবিরের এই পরোক্ষ সমর্থন বিজয়ের সরকারকে বিধানসভায় অনেকটাই নিরাপদ করে তুলেছে।
এআইএডিএমকে-তে ভাঙন ও আগামীর প্রভাব
বিজয়ের এই উত্থানের পথে সবচেয়ে বড় মোড় ঘুরিয়েছে বিরোধী দল এআইএডিএমকে-র নাটকীয় ভাঙন। যে দলটির ডিএমকে-র সাথে মিলে বিকল্প সরকার গঠনের কথা ছিল, সেই এআইএডিএমকে-র প্রায় অর্ধেক বিধায়ক এখন বিজয়ের পাশে। দলের প্রবীণ নেতা এস. পি. ভেলুমণি এবং সি. ভি. শানমুগামের নেতৃত্বাধীন একটি বড় অংশ টিভিকে সরকারকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে বিজয় কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠতাই অর্জন করেননি, বরং শরিক দলগুলোর চাপের বাইরে একটি অত্যন্ত স্থিতিশীল সরকার পরিচালনার সুযোগ করে নিয়েছেন। এই দ্রুত পরিবর্তন দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে বিজয়ের একচ্ছত্র আধিপত্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
