সুজিতের পর কি তবে রথীন? পুর-দুর্নীতিতে ইডির নজরে এবার উত্তর ২৪ পরগনার একঝাঁক পুরপ্রধান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গ্রেফতার হলেন রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু। লোকসভা নির্বাচনের আগে তাঁর বাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশি চালালেও কেন তখন গ্রেফতারি এড়ানো হয়েছিল, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে ছিল। সোমবার টানা ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে ইডি তাঁকে হেফাজতে নেয়। কেন্দ্রীয় সংস্থা সূত্রের খবর, সুজিত বসুর দেওয়া তথ্যে অসংখ্য অসঙ্গতি মেলায় এবং অনেক ডিজিটাল নথির সদুত্তর না পাওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কৌশলী অবস্থানে কেন্দ্রীয় সংস্থা
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, নির্বাচনের আগে সুজিত বসুকে বারবার তলব করা হলেও কৌশলগত কারণেই গ্রেফতারি এড়িয়ে চলা হয়েছিল। ইডির আশঙ্কা ছিল, ভোটের ঠিক আগে পদক্ষেপ নিলে জনমানসে ‘সহানুভূতি’ আদায়ের চেষ্টা করতে পারত শাসকদল। সেই রাজনৈতিক সুযোগ না দিতেই ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা হয়। তদন্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই নির্বাচনের পর পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেফতারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নজরে আরও রাঘববোয়াল ও আগামী দিনের প্রভাব
সুজিত বসুর গ্রেফতারির পর এখন জনমনে বড় প্রশ্ন— এর পর কে? ইডির আতশকাচের নিচে রয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার আরেক হেভিওয়েট নেতা তথা প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। এর আগেও তাঁকে একাধিকবার তলব করা হলেও ভোট প্রচারের কারণ দেখিয়ে তিনি হাজিরা এড়িয়েছেন। এছাড়া জেলার বেশ কয়েকজন পুর চেয়ারম্যানের নামও উঠে এসেছে এই নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে।
বিরোধীদের দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি মেনেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজ্য রাজনীতির বিশ্লেষকদের মতে, এই গ্রেফতারি শুধুমাত্র শুরু মাত্র। গরু ও কয়লা পাচার কাণ্ডেও নতুন করে তদন্তের গতি বাড়লে আগামী দিনে শাসকদলের ওপর চাপ আরও তীব্র হতে পারে, যার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায়।
