১০০ দিনের কাজের টাকা প্রাপকদের তালিকা যাচাইয়ের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

রাজ্যে নবগঠিত বিজেপি সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প নিয়ে বড়সড় দুর্নীতির আশঙ্কায় কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবারের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ১০০ দিনের কাজের টাকা কারা পাচ্ছেন এবং সেই প্রাপকরা আদৌ বৈধ কি না, তা অতি দ্রুত খতিয়ে দেখতে হবে। মূলত জব কার্ড জালিয়াতি রুখতে এবং প্রকৃত শ্রমিকদের হাতে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দিতেই এই বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভুয়ো জব কার্ড রুখতে সরকারের কঠোর অবস্থান
পূর্বতন সরকারের আমলে একশো দিনের কাজের প্রকল্পে (MGNREGA) ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল তৎকালীন বিরোধী দল। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছিল যে, প্রচুর সংখ্যায় ভুয়ো জব কার্ড তৈরি করে প্রকল্পের অর্থ লুট করা হচ্ছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ২০২১ সাল থেকে এই প্রকল্পের টাকা বন্ধ ছিল বাংলায়। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার ক্যাবিনেট বৈঠকে বলেন, “অনেকেই কাজ না করে কেবল জব কার্ড বানিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করছে। যারা টাকা পাচ্ছেন, তাঁরা কতটা বৈধ তা দ্রুত জেনে নিন।” এই নির্দেশের মাধ্যমে প্রশাসন এখন ব্লক স্তর পর্যন্ত তালিকা যাচাইয়ের কাজ শুরু করতে চলেছে।
প্রকল্পের ভবিষ্যৎ ও প্রশাসনিক প্রভাব
রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১০০ দিনের কাজের বকেয়া এবং বর্তমান পাওনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল রয়েছে। এর আগে তৃণমূল সরকার ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্পের মাধ্যমে নিজস্ব উদ্যোগে বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। তবে বর্তমানে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসায় এবং মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং নজরদারির নির্দেশ দেওয়ায়, এখন থেকে প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা বজায় রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভুয়ো উপভোক্তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়লে একদিকে যেমন প্রকৃত অভাবী শ্রমিকরা উপকৃত হবেন, তেমনই সরকারি কোষাগারের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে। সরকারের এই পদক্ষেপ আগামীর দিনগুলোতে গ্রামীণ উন্নয়নের কাজে বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল আনতে পারে।
