সুজিত বসুর গ্রেফতারিতে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি, এবার তরুণজ্যোতির নিশানায় কে?

রাজ্যের প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে সরগরম বাংলার রাজনৈতিক মহল। সোমবার রাতে ইডির হাতে মন্ত্রী গ্রেফতার হওয়ার পরপরই নতুন জল্পনা উসকে দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, সুজিত বসুর পর আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীর জেলযাত্রা এখন সময়ের অপেক্ষা। বিশেষ করে রাজারহাট-গোপালপুর এলাকার এক নেতার নাম উল্লেখ করে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তদন্তের পরিধি আরও বাড়তে চলেছে।
নিয়োগ দুর্নীতির জালে একের পর এক হেভিওয়েট
পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর সুজিত বসুর গ্রেফতারি এই তদন্তে বড় মোড় বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, সল্টলেক সেক্টর ফাইভে সুজিত বসুর ছেলের মালিকানাধীন একটি রেস্তোরাঁকে কেন্দ্র করে সন্দেহ দানা বাঁধে। কোনো পরিকাঠামো ছাড়াই রেস্তোরাঁ পরিচালনার আড়ালে কালো টাকা সাদা করার অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালে অয়ন শীলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েই পুরনিয়োগ দুর্নীতির সূত্র পায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সেই সুত্র ধরেই দীর্ঘ সাড়ে দশ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে সোমবার রাতে গ্রেফতার করা হয় প্রাক্তন মন্ত্রীকে।
তদন্তের প্রভাব ও পরবর্তী সম্ভাবনা
তরুণজ্যোতি তিওয়ারির দাবি অনুযায়ী, দক্ষিণ দমদম ও রাজারহাট-গোপালপুর এলাকার একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি এই চক্রে সরাসরি যুক্ত। তিনি স্পষ্টভাবে দেবরাজ চক্রবর্তীর নাম উল্লেখ করে জানিয়েছেন যে, দুর্নীতির শিকড় অনেক গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই গ্রেফতারির ফলে রাজ্যের অন্যান্য পুরসভাগুলোতেও তদন্তের গতি বাড়তে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সমন পাওয়া সত্ত্বেও অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজিরা না দেওয়া প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষের বিষয়টিও এখন তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। সুজিত বসুর গ্রেফতারি একদিকে যেমন শাসক দলের অস্বস্তি বাড়িয়েছে, তেমনি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আগামী দিনে আরও বড় কোনো পদক্ষেপের পথ প্রশস্ত করল।
