নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক, পাঁচ বছর বয়স বাড়ছে সরকারি চাকরির আবেদনের

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই একগুচ্ছ জনকল্যাণমুখী ও প্রশাসনিক সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে নবনির্বাচিত পাঁচ মন্ত্রী ও শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে রাজ্যের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান সরকার দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করবে।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সংযুক্তি ও আইনি সংস্কার
প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনতে রাজ্যজুড়ে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর পাশাপাশি ‘বেটি বাঁচাও’, ‘বিশ্বকর্মা যোজনা’ এবং ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোকে রাজ্যে দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএসএফ-এর জন্য কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়াতে রাজ্যের আইএএস ও আইপিএস অফিসারদের কেন্দ্রীয় স্তরে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়ার পথও প্রশস্ত করা হয়েছে।
কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষায় বড় চমক
রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় ঘোষণা করে সরকারি চাকরির আবেদনের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। একইসঙ্গে রাজনৈতিক হিংসায় প্রাণ হারানো ৩২১ জন বিজেপি কর্মীর পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে সরকার। সাধারণ মানুষের মনে চলা সংশয় দূর করে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, পূর্ববর্তী সরকারের চালু করা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা যুবসাথীর মতো সামাজিক প্রকল্পগুলো বন্ধ হবে না, বরং সাধারণ মানুষ নতুন সুযোগ-সুবিধা পাবেন। এই সিদ্ধান্তগুলো রাজ্যের আর্থ-সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে সমন্বয় বৃদ্ধি করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
