কলকাতায় বেআইনি হোর্ডিংয়ের দাপট: রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে রমরমিয়ে ব্যবসা, নজরে ৩০টি অবৈধ কাঠামো! – এবেলা

কলকাতায় বেআইনি হোর্ডিংয়ের দাপট: রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে রমরমিয়ে ব্যবসা, নজরে ৩০টি অবৈধ কাঠামো! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা শহরে সরকারি জমি ও ফুটপাত দখল করে চলা বেআইনি বিজ্ঞাপনের রমরমা রুখতে নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ শুরু করেছে পুর প্রশাসন। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনবহুল এলাকায় ইতিমধ্যেই ৩০টি বিশালাকার অবৈধ বিজ্ঞাপন কাঠামো বা হোর্ডিং শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি কাঠামোতে প্রাথমিক পর্যায়ে আইনি নোটিস ঝুলিয়ে দিয়েছে পুরসভার বিজ্ঞাপন বিভাগ। প্রশাসনের এই তৎপরতায় বড়সড় ধাক্কা খেতে চলেছে শহরের একটি প্রভাবশালী বিজ্ঞাপন চক্র।

রাজস্ব ফাঁকি ও প্রভাবশালী যোগের হদিশ

পুরসভার আধিকারিকদের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, শহরের এই অবৈধ বিজ্ঞাপন ব্যবসার নেপথ্যে রয়েছে পাঁচ থেকে ছয়টি বড় বিজ্ঞাপন সংস্থা। তারা দীর্ঘদিন ধরে নিয়মবহির্ভূতভাবে হোর্ডিং স্থাপন করে বিপুল মুনাফা অর্জন করলেও সরকারি কোষাগারে কোনো রাজস্ব জমা দেয়নি। এমনকি বাঘাযতীনের একটি মন্দিরের গা ঘেঁষে কিংবা গড়িয়ার খোলা মাঠে নিয়ম না মেনেই গড়ে তোলা হয়েছে দানবীয় বিজ্ঞাপন কাঠামো। পার্ক সার্কাস ৪ নম্বর ব্রিজের কাছে একটি ব্যক্তিগত জমিতে অনুমোদিত আকারের চেয়েও বড় কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যা ব্রিজের সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে জননিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি করছে।

প্রশাসন ও পরবর্তী পদক্ষেপ

পুরসভা সূত্রে জানানো হয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব ও নানা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এতদিন এই অবৈধ কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এবার নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের তালিকা তৈরি করে সরাসরি মাঠে নেমেছে প্রশাসন। যেসব ক্ষেত্রে কাঠামোগত ত্রুটি সামান্য, সেখানে বড় অঙ্কের জরিমানা আদায়ের মাধ্যমে তা বৈধ করার সুযোগ থাকলেও, সম্পূর্ণ অবৈধভাবে গড়ে ওঠা হোর্ডিংগুলো ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই অভিযানের ফলে একদিকে যেমন সরকারি জমি ও ফুটপাত দখলমুক্ত হবে, অন্যদিকে বিজ্ঞাপন বাবদ বকেয়া রাজস্ব আদায়ের পথও প্রশস্ত হবে বলে মনে করছেন পুর কর্তৃপক্ষ। শহরের সৌন্দর্যায়ন রক্ষা এবং দুর্ঘটনা এড়াতে আগামী দিনগুলোতে এই উচ্ছেদ অভিযান আরও ত্বরান্বিত করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *