শুভেন্দুর কোন ‘অ্যাকশন প্ল্যান’-এ এত খুশি মোদী? বাংলায় পোস্ট ঘিরে জোর চর্চা

শুভেন্দুর কোন ‘অ্যাকশন প্ল্যান’-এ এত খুশি মোদী? বাংলায় পোস্ট ঘিরে জোর চর্চা

নবান্নে দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই একগুচ্ছ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের নতুন সরকারের এই প্রশাসনিক তৎপরতায় আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সোমবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাজের খতিয়ান তুলে ধরে বাংলায় একটি বিশেষ পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এবার ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের হাত ধরেই বাংলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলবে।

আয়ুষ্মান ভারত ও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের দুয়ার খুলল বাংলায়

দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু করা নিয়ে কেন্দ্র ও পূর্বতন রাজ্য সরকারের মধ্যে দড়ি টানাটানি চলেছিল। তবে সোমবার নবান্নে প্রথম দিনেই শুভেন্দু অধিকারী এই প্রকল্প চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, এর ফলে বাংলার সাধারণ মানুষ উন্নত মানের এবং সুলভ স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। শুধু স্বাস্থ্য নয়, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের একাধিক প্রকল্প যেমন— পিএম বিশ্বকর্মা, প্রধানমন্ত্রী ফাসল বিমা যোজনা এবং উজ্জ্বলা-৩ এবার থেকে বাংলায় বাধাহীনভাবে রূপায়িত হবে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফ-কে দ্রুত জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তকেও সাধুবাদ জানিয়েছেন মোদী।

নিয়োগে ছাড় ও শহিদ পরিবারের পাশে নতুন সরকার

শুভেন্দু অধিকারীর ‘অ্যাকশন প্ল্যানে’ কর্মসংস্থান এবং সামাজিক ন্যায়বিচার বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। নিয়োগ জটে আটকে পড়ে যাঁদের সরকারি চাকরির বয়স পেরিয়ে গিয়েছে, তাঁদের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বাড়ানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। পাশাপাশি, গণতন্ত্র রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ হারানো ৩২১টি শহিদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকারও পূরণ করতে চলেছে নতুন সরকার। রাজ্যে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ কার্যকর করা এবং সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক ব্যবস্থার জন্য আদমশুমারিতে সবুজ সংকেত দেওয়ার মতো বিষয়গুলিও প্রথম দিনের উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

মানুষের জন্য সরকার, বার্তা শুভেন্দুর

দফতর বণ্টনের পাশাপাশি আমলা ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই সরকার কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের জন্য নয় বরং সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করবে। দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল ও নিশীথ প্রামাণিকদের মতো অভিজ্ঞ সহকর্মীদের নিয়ে গঠিত তাঁর মন্ত্রিসভা বাংলার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর। দিল্লির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই দরাজ সার্টিফিকেট রাজ্যের নতুন সরকারের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *