কাশী-বেঙ্গল এক্সপ্রেসওয়ে: ৬ ঘণ্টাতেই কলকাতা থেকে বেনারস! বড় আপডেট এল বারাণসী-কলকাতা মেগা প্রজেক্ট নিয়ে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে ‘বারাণসী-কলকাতা এক্সপ্রেসওয়ে’ বা ‘কাশী-বেঙ্গল এক্সপ্রেসওয়ে’ প্রকল্পের কাজ। ৬১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ছয় লেনের গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়েটি চালু হলে কলকাতা থেকে বেনারস পৌঁছাতে বর্তমান সময়ের তুলনায় অর্ধেক সময় লাগবে। প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্পটি উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গকে সরাসরি যুক্ত করে এক বিশাল অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে।
প্রকল্পের অগ্রগতি ও বর্তমান পরিস্থিতি
দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশগত ছাড়পত্র ও ভূমি সংক্রান্ত জটিলতায় প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চললেও, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পটপরিবর্তনের পর এতে নতুন গতি সঞ্চার হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পে পরিবেশ মন্ত্রকের বিশেষজ্ঞ কমিটি ইতিমধ্যেই ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের একাংশে ২০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। উত্তরপ্রদেশে প্রকল্পের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং বিহারেও নির্মাণ কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। তবে পশ্চিমবঙ্গ অংশে ১০৩ হেক্টর বনভূমি সংক্রান্ত ছাড়পত্র এবং রুট পুনর্বিন্যাসের মতো কিছু চ্যালেঞ্জ এখনও বিদ্যমান, যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে নবগঠিত রাজ্য প্রশাসন।
আঞ্চলিক অর্থনীতি ও পরিবেশ রক্ষা
২০২৮ সালের মার্চের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এই এক্সপ্রেসওয়েটি পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি ও হাওড়া জেলার ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পরিকল্পনায় বিশেষ আন্ডারপাস রাখার কথা জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বারাণসী, গয়া, রাঁচি ও কলকাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক শহরগুলোকে একসূত্রে বাঁধার ফলে পণ্য পরিবহন ও লজিস্টিকস ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে, যা সামগ্রিকভাবে পূর্ব ভারতের আঞ্চলিক অর্থনীতিকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
