ইঁদুরের শরীরে লুকিয়ে ‘মারণ’ আতঙ্ক! কী ভাবে ছড়ায় হান্টাভাইরাস, জানলে শিউরে উঠবেন

নদীর নাম থেকে নামকরণ, কোরীয় যুদ্ধের সেই রহস্যময় রক্তক্ষরণজনিত জ্বরের ইতিহাস ফিরে এল একবিংশ শতাব্দীতে। বর্তমানে আর্জেন্তিনা থেকে কেপ ভার্দেগামী একটি প্রমোদতরীতে হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এবং দুই ভারতীয়সহ একাধিক পর্যটকের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ইতিমধ্যেই ১২টি দেশকে এই ভাইরাস নিয়ে সতর্ক করেছে।
নামকরণ ও ইতিহাসের প্রেক্ষাপট
হান্টাভাইরাসের নামটির নেপথ্যে রয়েছে ভৌগোলিক ইতিহাস। ১৯৫০-এর দশকে কোরীয় যুদ্ধের সময় কয়েক হাজার সৈন্য হঠাৎ করেই কিডনির সমস্যা ও রক্তক্ষরণজনিত জ্বরে আক্রান্ত হন। পরে বিজ্ঞানীরা দক্ষিণ কোরিয়ার হান্টান নদী (Hantan River) সংলগ্ন এলাকার মেঠো ইঁদুরের দেহে এই ভাইরাসটি প্রথম আবিষ্কার করেন। সেই নদীর নাম অনুসারেই ভাইরাসের নাম রাখা হয় ‘হান্টা’।
কীভাবে ছড়ায় এই ভাইরাস?
হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুর বা তীক্ষ্ণদন্তী প্রাণীর দেহ থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে।
- বাতাসের মাধ্যমে: সংক্রামিত ইঁদুরের মল, মূত্র বা লালা শুকিয়ে ধুলোর সঙ্গে মিশে গেলে, সেই বাতাস শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে মানুষ আক্রান্ত হয়।
- সরাসরি সংস্পর্শ: আক্রান্ত প্রাণীর কামড়, আঁচড় বা তাদের বর্জ্যের সরাসরি সংস্পর্শে এলে সংক্রমণ হতে পারে।
- মানুষ থেকে মানুষে: হান্টার ‘আন্দেস’ (Andes) নামক নির্দিষ্ট একটি উপরূপ মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, যা বর্তমানে প্রমোদতরীর ঘটনায় দেখা গিয়েছে।
উপসর্গ ও ভয়াবহতা
সংক্রমণের দুই থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে সাধারণত রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। হান্টাভাইরাস মূলত ফুসফুস ও কিডনিকে আক্রমণ করে।
- প্রাথমিক লক্ষণ: জ্বর, ক্লান্তি, পেশিতে ব্যথা, মাথাব্যথা ও কাঁপুনি।
- গুরুতর পর্যায়: শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়ার লক্ষণ এবং ফুসফুসে জল জমা। একে ‘হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম’ বলা হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাইরাসের মৃত্যুহার অত্যন্ত উদ্বেগজনক— প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ।
চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
বর্তমানে হান্টাভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট টিকা বা অনুমোদিত অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই। তাই সচেতনতাই একমাত্র পথ।
- বাসস্থান ও কর্মক্ষেত্র ইঁদুরমুক্ত রাখা এবং তাদের প্রবেশপথ বন্ধ করা।
- ইঁদুরের উপদ্রব আছে এমন জায়গা পরিষ্কার করার সময় মাস্ক ও দস্তানা ব্যবহার করা।
- খাবার নিরাপদ ও ঢাকা স্থানে সংরক্ষণ করা।
হু-র মহামারি বিভাগ জানিয়েছে, হান্টাভাইরাস করোনার মতো ব্যাপক হারে ছড়ানোর ক্ষমতা রাখে না, তবে এর উচ্চ মৃত্যুহারের কারণে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে প্রাদুর্ভাবযুক্ত এলাকা থেকে ফেরা পর্যটকদের আট সপ্তাহের মধ্যে কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।
