চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ড: সিবিআই-এর হাতে তদন্তের ব্যাটন, প্রথমেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা! – এবেলা

চন্দ্রনাথ হত্যাকাণ্ড: সিবিআই-এর হাতে তদন্তের ব্যাটন, প্রথমেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্য রাজনীতির হাইভোল্টেজ চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার হাতে নিয়েই সক্রিয় হয়ে উঠল সিবিআই। মঙ্গলবার রাজ্য পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’-এর কাছ থেকে নথিপত্র গ্রহণের পর সরাসরি মধ্যমগ্রামের ঘটনাস্থলে পৌঁছান কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। বিরোধী দলনেতার আপ্তসহায়ক খুনের নেপথ্যে থাকা বৃহত্তর ষড়যন্ত্র এবং আততায়ীদের নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করাই এখন কেন্দ্রীয় সংস্থার প্রধান লক্ষ্য।

গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, একটি চারচাকার গাড়ি দিয়ে চন্দ্রনাথের পথ আটকানোর পর দুটি বাইকে আসা দুষ্কৃতীরা এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চন্দ্রনাথের এবং গুরুতর আহত হন তাঁর চালক। এই ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে শেষ পর্যন্ত রাজ্য পুলিশ মামলাটি সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সিবিআই জানিয়েছে, কলকাতা জোনের যুগ্ম নির্দেশকের অধীনে একটি বিশেষ দল এই খুনের কিনারা করতে কাজ শুরু করেছে।

তদন্ত প্রক্রিয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক

ঘটনার তদন্তে নেমে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে তিন অভিযুক্ত— রাজ সিংহ, ময়াঙ্করাজ মিশ্র এবং ভিকি মৌর্যকে গ্রেফতার করেছিল। তবে এই গ্রেফতারি প্রক্রিয়া নিয়ে আইনি প্রশ্ন তুলেছেন ধৃত রাজ সিংহের আইনজীবী হরিবংশ সিংহ। তাঁর অভিযোগ, স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ট্রানজিট রিমান্ড ছাড়াই রাজকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্ত শুরু হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে তিনি দাবি করেন, এর ফলে সঠিক তথ্য সামনে আসবে।

পরিবারের দাবি ও পরবর্তী প্রভাব

অন্য দিকে, ধৃত রাজের মা জামবন্তী সিংহ তাঁর ছেলেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন। তাঁর মতে, রাজকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে। ঘটনার সময় তাঁরা উত্তরপ্রদেশের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে এবং পরবর্তীতে মাজারে ছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি। পরিবারের এই বয়ান এবং পুলিশের গ্রেফতারি পদ্ধতি নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা সিবিআই-এর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই তদন্তের গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা এখন ধৃতদের জেরা করে খুনের প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এর পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *