তিলজলার অগ্নিকাণ্ডে ২ জনের মৃত্যু! পুলিশকে এফআইআর ও কড়া ব্যবস্থার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতার তিলজলা এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মঙ্গলবার দুপুরে তপসিয়ার জিজে খান রোডের একটি চারতলা বহুতলের দোতলায় হঠাৎই আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন বিধ্বংসী রূপ ধারণ করে এবং ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দমবন্ধ হয়ে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে এবং আরও অন্তত পাঁচজন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি ও প্রশাসনের তৎপরতা
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজ্য প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ইতিমত্যেই পুলিশকে সুনির্দিষ্ট এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে মুখ্য সচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের স্বাক্ষরিত এক আদেশে একটি চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের বিভাগীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে এমএসএমই দপ্তরের এসিএস, দমকল ও জরুরি পরিষেবা দপ্তরের এসিএস, কলকাতা পুলিশ কমিশনার এবং পুর কমিশনারকে রাখা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১৩ মে সকাল ১১টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার নেপথ্যে গাফিলতির আশঙ্কা
প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, জনবসতিপূর্ণ এলাকায় নিয়ম না মেনে দাহ্য বস্তুর মজুত বা শর্ট সার্কিট থেকে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় দমকলের পৌঁছাতে এবং উদ্ধারকাজ চালাতেও বেগ পেতে হয়। এই ঘটনার প্রভাব হিসেবে শহরের পুরনো ও ঘিঞ্জি বহুতলগুলোর অগ্নিসুরক্ষা বিধি নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। প্রশাসনের এই ত্বরিত পদক্ষেপ এবং কঠোর তদন্তের নির্দেশ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আইন অমান্যকারী বা গাফিলতিতে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে চলেছে। তিলজলার এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল যে, মহানগরের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কড়া নজরদারির কোনো বিকল্প নেই।
