প্রভাবশালী তত্ত্বে ১০ দিনের ইডি হেফাজতে সুজিত বসু, কোটি টাকার রহস্যজনক লেনদেনে ঘনীভূত অস্বস্তি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে গ্রেফতার হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশাল আদালত তাকে ১০ দিনের ইডি (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট) হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রভাবশালী হিসেবে সুজিত বসু বাইরে থাকলে তদন্তের গতিপ্রকৃতি প্রভাবিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
রেস্তরাঁ ও লেনদেনের অমিল
আদালতে ইডির আইনজীবীরা সুজিত বসুর পারিবারিক ব্যবসার আড়ালে বিপুল অর্থ তছরুপের অভিযোগ তুলেছেন। ইডির দাবি অনুযায়ী, অতিমারির লকডাউনের সময় যখন সমস্ত রেস্তরাঁ বন্ধ ছিল, সেই সময়েও সুজিত বসুর মালিকানাধীন তিনটি রেস্তরাঁ ও ধাবা থেকে কয়েক কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রশ্ন, যেখানে ব্যবসা বন্ধ এবং কর্মীরা অনুপস্থিত ছিলেন, সেখানে কীভাবে ১.১১ কোটি টাকার বিক্রি সম্ভব হলো? এছাড়া, জনৈক অয়ন শীলের কাছ থেকে পাওয়া ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতে ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম বেআইনিভাবে সুপারিশ করার এবং সেই অর্থ বিভিন্ন সংস্থায় বিনিয়োগের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
আইনজীবীর পাল্টা সওয়াল ও বিচার প্রক্রিয়া
সুজিত বসুর পক্ষের আইনজীবী অবশ্য গ্রেফতারির সময়কাল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার সওয়াল ছিল, যে নথি ২০২২-২৩ সালের, তার ভিত্তিতে ২০২৬ সালে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে? তিনি আরও দাবি করেন, সিবিআই-এর চার্জশিটে সুজিতের নাম না থাকা সত্ত্বেও ইডি তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেফাজতে নিতে চাইছে। দীর্ঘক্ষণ সওয়াল-জবাব শেষে আদালত ইডির যুক্তিকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী দশ দিনের জন্য হেফাজত মঞ্জুর করে।
তদন্তের সম্ভাব্য প্রভাব
তদন্তকারী সংস্থা মনে করছে, সুজিত বসুকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করলে ‘স্বভূমি প্রোজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড’ সহ একাধিক ভুয়ো সংস্থায় টাকা বিনিয়োগের জটিল জাল উন্মোচিত হতে পারে। বিশেষ করে নিয়োগ দুর্নীতির টাকা কীভাবে ‘চ্যানেলাইজ’ করা হয়েছিল এবং প্রভাবশালী মহলের কার কার কাছে সেই লভ্যাংশ পৌঁছেছিল, তা জানার জন্য এই জিজ্ঞাসাবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের আবহে প্রাক্তন এই মন্ত্রীর গ্রেফতারি রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
