রেশন দুর্নীতিতে কড়া পদক্ষেপের বার্তা, সাত দিনের সময় চাইলেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া

বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক তথা নবনিযুক্ত খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া দায়িত্বভার গ্রহণ করেই রেশনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেছেন। মঙ্গলবার খাদ্য দফতরে প্রথমবার পা রেখেই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, স্বচ্ছতা বজায় রাখাই তাঁর মূল লক্ষ্য। দফতরের অনিয়ম খুঁজে বের করতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংবাদমাধ্যমের কাছে সাত দিনের সময় চেয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আস্থার মর্যাদা রেখে এই ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ দফতরকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন নয়া মন্ত্রী।
দুর্নীতি উপড়ে ফেলার হুঁশিয়ারি
খাদ্য দফতরে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি হয়েছে বলে দাবি করেন অশোক কীর্তনিয়া। তাঁর মতে, অতীতে কী হয়েছে তা খতিয়ে দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মে মাসে রেশন বন্টনে কিছুটা সমস্যা থাকলেও জুন মাস থেকে সাধারণ মানুষ উন্নত মানের খাদ্যদ্রব্য পাবেন বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া রেশন কার্ড এবং পরিচয়পত্র যাচাইয়ের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি সাফ জানান, ভারতের নাগরিক নন এমন কেউ সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন না। নিজেকে ‘মাটির মানুষ’ হিসেবে দাবি করে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর মেয়াদে দফতরকে সম্পূর্ণ কলঙ্কমুক্ত রাখবেন।
পুরনো ফাইল খোলার ইঙ্গিত
তৃণমূল জমানায় উত্তর ২৪ পরগনার দুই হেভিওয়েট নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও রথীন ঘোষ এই দফতরের দায়িত্বে ছিলেন। কাকতালীয়ভাবে অশোক কীর্তনিয়াও সেই একই জেলার বাসিন্দা। তবে পূর্বসূরিদের সমালোচনা করে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, খাদ্য দফতরের পুরনো ফাইল ঘেঁটে দুর্নীতির আসল উৎস খুঁজে বের করা হবে। প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর গ্রেফতারি প্রসঙ্গেও তিনি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে জানান যে, আগামীতে আরও অনেক রাঘববোয়াল গ্রেফতার হতে পারেন। রেশন দুর্নীতি নিয়ে ইডি ও সিবিআইয়ের সক্রিয়তার মাঝে নয়া খাদ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থান রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার, দুর্নীতিমুক্ত খাদ্য দফতর গড়ার এই চ্যালেঞ্জ তিনি কীভাবে মোকাবিলা করেন।
