নবান্নে ব্যাপক রদবদল, ২৩২ জন পুনর্নিয়োগ পাওয়া আধিকারিককে একযোগে ছাঁটাই

রাজ্য প্রশাসনে বড়সড় রদবদলের পথে হাঁটল নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে রাজ্য প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র নবান্ন থেকে ২৩২ জন আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়ার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মূলত গত এক দশকে যাঁরা অবসরের পর বিশেষ মেয়াদে বা চুক্তিভিত্তিক পুনর্নিয়োগ পেয়েছিলেন, তাঁদের সকলকেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পরই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এই তালিকায় রাজ্যের অর্থ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শ্রম এবং জমি দফতরের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্তারা রয়েছেন। আইএএস, আইপিএস এবং ডব্লিউবিসিএস ক্যাডারের যে সমস্ত অভিজ্ঞ আধিকারিক তৃণমূল জমানায় অবসরের পর বিশেষ সুবিধা নিয়ে কর্মরত ছিলেন, সরকার তাঁদের পরিষেবা আর প্রয়োজন নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে।
প্রশাসনিক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত
নবান্নের জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র সরকারি দফতর নয়, বরং বিভিন্ন অ-সংবিধিবদ্ধ বোর্ড, জনকল্যাণমূলক নিগম এবং পিএসইউ-তে মনোনীত চেয়ারম্যান, ডিরেক্টর বা সদস্যদের নিয়োগও বাতিল করা হয়েছে। প্রতিটি দফতরের সচিবদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হয়। যে সমস্ত আধিকারিক ৬০ বছর বয়স পার করার পর ‘এক্সটেনশন’ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন, তাঁদের পদগুলি এখন শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ ও প্রশাসনিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার বার্তা দিতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিগত সময়ে প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে নির্দিষ্ট কিছু আধিকারিকের পুনর্নিয়োগ নিয়ে বিরোধীরা লাগাতার সরব ছিল। বর্তমান সরকারের এই কড়া সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিনের ‘পলিটিক্যাল ইকোসিস্টেম’ ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে, এই শূন্যস্থানগুলোতে নতুন ও তরুণ আমলাদের নিয়ে এসে প্রশাসনিক গতিশীলতা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন অভিজ্ঞতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, অন্যদিকে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা রক্ষায় এটি একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
