পকেটে আয়ুষ্মান কার্ড? কলকাতার এই নামী হাসপাতালগুলোতে মিলবে সম্পূর্ণ ফ্রি চিকিৎসা! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
কেন্দ্রীয় সরকারের ফ্ল্যাগশিপ স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ এখন কলকাতার সাধারণ ও নিম্নবিত্ত মানুষের চিকিৎসার দুশ্চিন্তা দূর করতে বড় ভূমিকা পালন করছে। এই প্রকল্পের আওতায় শহরের একাধিক প্রথম সারির সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা ক্যাশলেস চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা। বিশেষ করে ক্যানসার, হৃদরোগ ও কিডনির মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই কার্ড এক বড় রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করছে।
সুবিধা মিলবে যেসব হাসপাতালে
কলকাতার প্রধান সরকারি হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি বেশ কিছু নামী বেসরকারি হাসপাতাল এই প্রকল্পের তালিকাভুক্ত। উল্লেখযোগ্য সরকারি হাসপাতালের মধ্যে রয়েছে এসএসকেএম (SSKM), এনআরএস (NRS), আরজি কর এবং ক্যালকাটা মেডিকেল কলেজ। বেসরকারি খাতের মধ্যে রুবি জেনারেল হাসপাতাল, ডিসান হাসপাতাল হার্ট ইনস্টিটিউট, বি এম বিড়লা হার্ট রিসার্চ সেন্টার এবং পিয়ারলেস হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানে এই কার্ড কার্যকর। এছাড়াও আইরিস মাল্টি স্পেশালিটি, বি পি পোদ্দার হাসপাতাল এবং সরোজ গুপ্ত ক্যান্সার সেন্টারের মতো বিশেষায়িত কেন্দ্রেও রোগীরা বিমার সুবিধা নিতে পারবেন। তবে ভর্তির আগে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে ওই নির্দিষ্ট রোগের প্যাকেজ অনুমোদিত কি না, তা যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।
যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র
এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত রয়েছে। বার্ষিক ২.৫ লক্ষ টাকার কম আয় সম্পন্ন পরিবার, কাঁচা বাড়িতে বসবাসকারী ব্যক্তি এবং তফশিলি জাতি ও জনজাতির মানুষরা এতে অগ্রাধিকার পান। তবে সাম্প্রতিক সংশোধনী অনুযায়ী, ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী সমস্ত প্রবীণ নাগরিক এই বিমার আওতাভুক্ত হবেন, এক্ষেত্রে আয়ের কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই। এই সুবিধা গ্রহণের জন্য রেশন কার্ড, আধার কার্ড এবং নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা বাধ্যতামূলক। হাসপাতালে ভর্তির সময় বৈধ আয়ুষ্মান কার্ড দেখালে কোনো নগদ টাকা ছাড়াই চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব।
ক্রমবর্ধমান চিকিৎসা ব্যয়ের এই সময়ে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প সাধারণ মানুষের জন্য আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করছে। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য অতিরিক্ত ৫ লক্ষ টাকার ‘টপ-আপ’ কভার এবং জটিল অস্ত্রোপচারের সুবিধা স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে চিকিৎসার জন্য আর জমি-জমা বা সঞ্চয় হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে হবে না।
