শান্তির বার্তা নাকি কড়া হুঁশিয়ারি? পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে মুখ খুললেন আরএসএস সাধারণ সম্পাদক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার আবহে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে এক তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবেলে। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করা উচিত নয়। তবে একইসঙ্গে তিনি কড়া বার্তা দিয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, দেশের নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস বরদাস্ত করা হবে না।
শান্তি বজায় রাখার দীর্ঘ প্রচেষ্টা
দত্তাত্রেয় হোসাবেলে ভারতের পূর্বতন ও বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী লাহোর বাস যাত্রার মাধ্যমে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছিলেন। একইভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং পরে পাকিস্তান সফর করেছিলেন। আরএসএস নেতার মতে, ভারত বারবার শান্তির উদ্যোগ নিলেও পাকিস্তানের দিক থেকে বারবার প্ররোচনামূলক আচরণ এবং পুলওয়ামার মতো সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অচলাবস্থা তৈরি করেছে।
নিরাপত্তা ও সংলাপের ভারসাম্য
প্রতিবেদনে হোসাবেলে জোর দিয়ে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও আত্মসম্মান যে কোনো রাষ্ট্রের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পাকিস্তান যদি ক্রমাগত সন্ত্রাসবাদকে উসকে দেয় বা প্রচ্ছন্ন মদত দেয়, তবে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য। তবে চরম উত্তেজনার মধ্যেও কূটনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য এবং ভিসা ব্যবস্থা সচল রাখা প্রয়োজন যাতে আলোচনার সামান্যতম সুযোগটুকুও হারিয়ে না যায়। তাঁর মতে, সংলাপের জানালা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে ভবিষ্যতে সম্পর্ক উন্নয়নের আর কোনো পথ অবশিষ্ট থাকে না।
অভ্যন্তরীণ ইস্যু ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি
ভারত-পাক সম্পর্কের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন আরএসএস সাধারণ সম্পাদক। মুসলিম নেতৃত্বের প্রসঙ্গে তিনি জানান যে, মুসলিম সমাজে জাতীয়তাবাদী নেতৃত্ব গড়ে ওঠা বর্তমানে বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি ‘লভ জিহাদ’ ইস্যুটিকে তিনি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে যদি হিন্দু মেয়েদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়, তবে তাকে সাধারণ প্রেম হিসেবে দেখা চলে না। সামগ্রিকভাবে, হোসাবেলের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং অভ্যন্তরীণ সামাজিক প্রেক্ষাপটে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
