পাক-চীন গোপন আঁতাত ফাঁস! ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে ড্রাগনকে কড়া বার্তা ভারতের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
পহেলগাম জঙ্গি হামলার জবাবে ভারতের চালানো ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মে ২০২৫-এ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনার সময় চীন সরাসরি পাকিস্তানকে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করেছিল বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, চীনের এই ভূমিকা ভারতের কাছে মোটেও অপ্রত্যাশিত ছিল না। ভারতের মতে, বেইজিংয়ের এই পদক্ষেপ কেবল পুরনো আশঙ্কারই প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
সন্ত্রাসবাদ ও চীনের বিতর্কিত ভূমিকা
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল একটি সংবাদ সম্মেলনে জানান, যারা নিজেদের শান্তিপ্রিয় এবং দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করে, তাদের ভাবা উচিত যে সন্ত্রাসবাদকে উসকে দেওয়া একটি কাঠামোর পাশে দাঁড়ানো আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাদের ভাবমূর্তির ওপর কী প্রভাব ফেলবে। চীন তাদের সরকারি সংবাদমাধ্যমে স্বীকার করেছে যে, সেই সংকটের সময় তাদের বিমান শিল্প সংস্থা (এভিক) পাকিস্তানকে কারিগরি সহায়তা দিয়েছিল। বিশেষ করে বেইজিংয়ের আধুনিক যুদ্ধবিমান ও ড্রোন প্রযুক্তির কারিগররা সরাসরি এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন বলে চীনা গণমাধ্যম সিসিটিভি-র প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
অপারেশন সিন্দুর ও ভারতের কড়া অবস্থান
ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, অপারেশন সিন্দুর ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং সুনির্দিষ্ট একটি পদক্ষেপ, যার লক্ষ্য ছিল পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসী পরিকাঠামো ধ্বংস করা। ভারতের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত জরুরি ছিল। নয়াদিল্লি মনে করে, সন্ত্রাসবাদ বিরোধী এই লড়াইয়ে কোনো শক্তির বাধা বা নেতিবাচক প্রভাব মেনে নেওয়া হবে না।
এই ঘটনার জেরে ভারত ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমীকরণ আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই সরাসরি প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং ভবিষ্যতে সীমান্ত উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে ভারত তার সার্বভৌমত্ব ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।
