সবুজ-মেরুনে বিপ্লবের নাম ‘টুটু বসু’: চিমা ওকেরি থেকে সঞ্জীব গোয়েঙ্কা, একের পর এক ইতিহাস! – এবেলা

সবুজ-মেরুনে বিপ্লবের নাম ‘টুটু বসু’: চিমা ওকেরি থেকে সঞ্জীব গোয়েঙ্কা, একের পর এক ইতিহাস! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মোহনবাগান ক্লাবের দীর্ঘ ইতিহাসে অনেক পালাবদল এসেছে, কিন্তু সৃজনশীল ও সাহসী নেতৃত্বের কথা উঠলে টুটু বসুর নাম থাকবে ওপরের সারিতেই। ক্লাব পরিচালনায় তিনি এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যা সে সময় কল্পনাতীত ছিল। স্রেফ আবেগ দিয়ে নয়, বরং আধুনিক পেশাদারিত্বের মিশেলে মোহনবাগানকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছিলেন এই ক্রীড়া সংগঠক।

বিদেশি ফুটবলার ও চিমা ওকেরি ম্যাজিক

একটা সময় ছিল যখন মোহনবাগানে বিদেশি ফুটবলার নেওয়া ছিল অলিখিতভাবে নিষিদ্ধ। ক্লাবের নিজস্ব ঐতিহ্য এবং ঘরোয়া শক্তির ওপর ভরসা করেই বছরের পর বছর এগিয়েছে সবুজ-মেরুন। কিন্তু সেই প্রথা ভেঙে ইতিহাস গড়েন টুটু বসু। প্রথম বিদেশি ফুটবলার হিসেবে তিনি ক্লাবে সই করান নাইজেরিয়ান তারকা চিমা ওকেরিকে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কেবল মোহনবাগান নয়, সামগ্রিকভাবে ভারতীয় ফুটবলের মানচিত্র বদলে যায়। চিমার অন্তর্ভুক্তি ক্লাবের শক্তিবৃদ্ধির পাশাপাশি সমর্থকদের মধ্যে এক নতুন উন্মাদনার জন্ম দিয়েছিল।

সঞ্জীব গোয়েঙ্কা ও এটিকের সঙ্গে নতুন যাত্রা

টুটু বসুর ফুটবল ক্যারিয়ারের অন্যতম বিতর্কিত ও আলোচিত অধ্যায় হলো প্রথিতযশা শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েঙ্কার হাতে ক্লাবের মালিকানা বা অংশীদারিত্ব তুলে দেওয়া। মোহনবাগান ক্লাবের নামের আগে যখন ‘এটিকে’ যুক্ত হয়, তখন সমর্থকদের একাংশের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে ক্লাবকে আধুনিক ফুটবলের কর্পোরেট পরিকাঠামোয় নিয়ে আসা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই তিনি এই বড় পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। আজ মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট যে সাফল্যের সরণিতে হাঁটছে, তার ভিত্তিপ্রস্তর মূলত স্থাপিত হয়েছিল সেই সাহসি সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই।

টুটু বসুর এই সাহসী সিদ্ধান্তগুলোই আজ মোহনবাগানকে কেবল একটি ফুটবল ক্লাব নয়, বরং একটি বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে। ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার এই মেলবন্ধন ভারতীয় ফুটবলে তার অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *