নিট কেলেঙ্কারিতে বিধ্বস্ত পড়ুয়াদের পাশে আনন্দ কুমার, ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা সুপার থার্টি খ্যাত শিক্ষকের

নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্তে দেশজুড়ে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই চরম হতাশার সময়ে মেধাবী পড়ুয়াদের মনোবল চাঙ্গা করতে এগিয়ে এসেছেন প্রখ্যাত গণিতজ্ঞ এবং ‘সুপার থার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা আনন্দ কুমার। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন বার্তায় তিনি পড়ুয়াদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে জানিয়েছেন, কঠোর পরিশ্রম কখনও বৃথা যায় না। তাই ভেঙে না পড়ে নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে হবে।
পড়ুয়া ও অভিভাবকদের মানসিক শক্তি সঞ্চয়ের আহ্বান
আনন্দ কুমার স্বীকার করেছেন যে, প্রশ্ন ফাঁসের মতো দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা মেধাবী শিক্ষার্থীদের মানসিক দৃঢ়তা নষ্ট করে দেয়। তবে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখাই এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি পড়ুয়াদের উদ্দেশ্যে বলেন, অর্জিত জ্ঞান কখনও হারিয়ে যায় না, বরং এই পরিস্থিতি থেকে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসতে হবে। অভিভাবকদের প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরোধ, এই কঠিন সময়ে সন্তানদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি না করে তাদের পাশে থেকে মানসিক সাহস জোগাতে হবে।
জালিয়াতির ভয়াবহ বিস্তার ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি
তদন্তে উঠে এসেছে যে, পরীক্ষার প্রায় এক মাস আগেই একটি ১৫০ পাতার ‘গেস পেপার’ ছড়িয়ে পড়েছিল বাজারে। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, সেই পেপারের ৪১০টি প্রশ্নের মধ্যে ১২০টি প্রশ্নই আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে গিয়েছে, বিশেষ করে রসায়ন ও জীববিদ্যা বিভাগে এই মিল ছিল সর্বাধিক। নাসিক থেকে শুরু হওয়া এই জালিয়াতির জাল হরিয়ানা, বিহার, অন্ধ্রপ্রদেশ ও রাজস্থানেও বিস্তৃত ছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আনন্দ কুমার অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলার সাহস না পায়।
সরকারি পদক্ষেপ ও নতুন করে লড়াইয়ের প্রস্তুতি
পরীক্ষা বাতিলের ধাক্কা সামাল দিতে জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA) এবং সরকার বেশ কিছু স্বস্তিদায়ক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পুনরায় পরীক্ষার জন্য কোনো বাড়তি ফি দিতে হবে না এবং নতুন করে রেজিস্ট্রেশনের ঝামেলাও রাখা হয়নি। নতুন অ্যাডমিট কার্ড ইস্যু করার প্রক্রিয়াও দ্রুত শুরু হবে। শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আনন্দ কুমারের মতো ব্যক্তিত্বের এই ভোকাল টনিক ভেঙে পড়া পরীক্ষার্থীদের মনে নতুন করে লড়াই করার রসদ জোগাবে এবং জাতীয় স্তরের এই কলঙ্ক দূর করতে সিস্টেমের সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে।
