ময়দানে নক্ষত্র পতন! প্রয়াত সবুজ-মেরুনের ‘অভিভাবক’ টুটু বসু, শোকস্তব্ধ মোহনবাগান – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
ভারতীয় ক্রীড়া প্রশাসনের এক নক্ষত্রের পতন ঘটল। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন মোহনবাগান ক্লাবের প্রাক্তন সভাপতি ও কিংবদন্তি ক্রীড়া সংগঠক স্বপনসাধন বসু, যিনি ময়দানে ‘টুটু বসু’ নামেই সমধিক পরিচিত ছিলেন। মঙ্গলবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর জীবনাবসান হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। সোমবার সন্ধ্যায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষরক্ষা হয়নি।
ময়দানের অবিসংবাদিত অভিভাবক
টুটু বসুর প্রয়াণ কেবল মোহনবাগান নয়, বরং সমগ্র ভারতীয় ফুটবল মহলে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করল। ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৫ পর্যন্ত তিনি ক্লাবের সচিবের দায়িত্ব সামলেছেন। পরবর্তীতে ১৯৯৫ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় তিনি সভাপতির পদে আসীন ছিলেন। তাঁর আমলেই মোহনবাগান ক্লাব পরিকাঠামোগত উন্নয়ন থেকে শুরু করে জাতীয় স্তরে একাধিক সাফল্য অর্জন করেছে। বিশেষ করে প্রাক্তন সচিব অঞ্জন মিত্রের সঙ্গে তাঁর কর্মদক্ষতার রসায়ন ময়দানের ইতিহাসে এক ‘মিথ’ হয়ে থাকবে। সাম্প্রতিক সময়ে সরাসরি প্রশাসনিক পদে না থাকলেও, তিনি ছিলেন সবুজ-সংগুন শিবিরের অন্যতম প্রধান পথপ্রদর্শক।
শেষযাত্রায় শ্রদ্ধা ও শোকের ছায়া
পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছে, বুধবার সকাল ৮টায় তাঁর মরদেহ বালিগঞ্জের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে খিদিরপুর ও ভবানীপুর ক্লাব হয়ে সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ মরদেহ পৌঁছাবে প্রিয় মোহনবাগান তাঁবুতে। সেখানে দুপুর আড়াইটে পর্যন্ত সমর্থকদের শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ থাকবে। বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
টুটু বসুর মৃত্যুতে ক্রীড়ামহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর প্রয়াণে একজন দক্ষ প্রশাসককে হারানোর পাশাপাশি ময়দান হারাল তার এক পরম হিতৈষীকে। ক্লাবের কঠিন সময়ে আর্থিক ও মানসিক সমর্থন জোগানোর ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। আধুনিক ফুটবল পেশাদারিত্বের যুগে তাঁর মতো আবেগপ্রবণ এবং সাহসী সংগঠকের অভাব দীর্ঘকাল অনুভূত হবে।
