অ্যাকশন মোডে শুভেন্দু সরকার! এক ধাক্কায় ২৪৩ জন অফিসারের ছুটি, নবান্নে বড় রদবদল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রশাসনিক স্তরে বড় ধরনের রদবদল শুরু করেছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর, বোর্ড এবং সরকারি সংস্থায় কর্মরত ২৪৩ জন কর্মকর্তার পুনর্নিযুক্তি ও চাকুরির মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ করা হয়, যার ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁদের পদ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।
অবসরোত্তর পুনর্নিযুক্তি প্রথার অবসান
সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পরেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। সরকারের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ৬০ বছর বয়সের পর যে সমস্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারী চুক্তিভিত্তিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তাঁদের মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না। এর পাশাপাশি অ-সাংবিধানিক সংস্থা ও সরকারি উপক্রমগুলোতে মনোনীত সদস্য, পরিচালক এবং চেয়ারম্যানদের অবশিষ্ট মেয়াদও বাতিল করা হয়েছে। প্রশাসনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ ও প্রশাসনিক সংস্কারের প্রভাব
শুভেন্দু অধিকারী এই প্রশাসনিক রদবদলকে ‘আসল পরিবর্তন’ আনার লক্ষ্যে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে এই পরিবর্তনের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের চাকুরিপ্রার্থীদের জন্য বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ৫ বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। মূলত গত সরকারের আমলে নিয়োগ জটিলতায় সময় নষ্ট হওয়া যুবকদের সুযোগ করে দিতেই এই ছাড় দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কার্যকর করা, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর এবং ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে নারীদের সহায়তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যাপক ছাঁটাই ও প্রশাসনিক পুনর্গঠন সরকারি কাজে গতি আনার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের পথ প্রশস্ত করতে পারে। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
