ইরানের ওপর আমেরিকা-ইজরায়েলের সাঁড়াশি চাপ! বিশ্ববাজারে কমল অপরিশোধিত তেলের দাম – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা এবং ইরানের ওপর চাপের মুখে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের (ক্রুড অয়েল) দামে সামান্য পতন লক্ষ্য করা গেছে। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় এক শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ১০৭ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) তেলের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১০১ ডলারে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাবে বাজারে অস্থিরতা চললেও বর্তমানে দাম সামান্য নিম্নমুখী।
মধ্যপ্রাচ্যে ঘনীভূত যুদ্ধ পরিস্থিতি
ইরানকে কোণঠাসা করতে আমেরিকা ও ইসরায়েল তাদের কৌশলগত অবস্থান শক্ত করছে। এই জোটে যোগ দিতে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের যুদ্ধজাহাজও মধ্যপ্রাচ্যের অভিমুখে রওনা দিয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর তেহরানের পক্ষ থেকে কড়া পালটা হুমকি দেওয়া হয়েছে। গত ১০ সপ্তাহ ধরে চলা এই সংকটে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘হরমুজ প্রণালী’। এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথটি প্রায় বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারিতে এই সংকট শুরুর সময় তেলের দাম ছিল ৭০ ডলারের কাছাকাছি, যা উত্তেজনার জেরে মার্চ মাসে ১২৫ ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল।
সরবরাহ ও বৈশ্বিক প্রভাব
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেলের বাজার এখন অনেকটাই কূটনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীন সফরকে কেন্দ্র করে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। বেইজিং যদি তার প্রভাব খাটিয়ে ইরানকে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালীর অবরোধ প্রত্যাহারে রাজি করাতে পারে, তবে তেলের দাম আরও কমতে পারে। তবে সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইন পুনরায় স্বাভাবিক করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আন্তর্জাতিক বাজারে দামের এই ওঠানামা সত্ত্বেও ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পেট্রোল ও ডিজেলের দামে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। দিল্লিতে পেট্রোল প্রতি লিটার ৯৪.৭৭ টাকা এবং মুম্বাইতে ১০৩.৫৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কলকাতা ও চেন্নাইতে লিটার প্রতি পেট্রোলের দাম যথাক্রমে ১০৫.৪১ টাকা এবং ১০০.৮৪ টাকা। বিশ্ব পরিস্থিতির ওপর নজর রাখলেও স্থানীয় গ্রাহকদের জন্য জ্বালানির দর আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে।
