সোনা কেনায় বড় ধাক্কা! মোদীর আহবানের পরেই একলাফে ১৫% বাড়ল আমদানিশুল্ক – এবেলা

সোনা কেনায় বড় ধাক্কা! মোদীর আহবানের পরেই একলাফে ১৫% বাড়ল আমদানিশুল্ক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আমেরিকার আকাশকে দুর্ভেদ্য করতে নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ‘গোল্ডেন ডোম’ বা মিসাইল শিল্ড প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) এক নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী ২০ বছরে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং পরিচালনা করতে ১.২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হতে পারে। এই হিসাব গত বছরের প্রাথমিক অনুমান ১৭৫ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় বহুগুণ বেশি।

ক্ষমতার প্রথম সপ্তাহেই এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ট্রাম্প এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছিলেন। ইসরায়েলের বহুমুখী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পুরো আমেরিকার জন্য এই বিশাল সুরক্ষা কবচ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মূলত ইরান বা শত্রু রাষ্ট্রগুলোর সম্ভাব্য রকেট ও মিসাইল হামলা থেকে মার্কিন ভূখণ্ডকে সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

ব্যয়ের সিংহভাগই মহাকাশ-ভিত্তিক প্রযুক্তিতে

সিবিও-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল অংকের মধ্যে শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি অধিগ্রহণের খরচই পড়বে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। এই ব্যয়ের একটি বড় অংশ ব্যয় হবে ইন্টারসেপ্টর লেয়ার এবং মহাকাশ-ভিত্তিক মিসাইল ওয়ার্নিং ও ট্র্যাকিং সিস্টেম তৈরিতে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই প্রকল্পের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অংশ হলো মহাকাশ-ভিত্তিক ইন্টারসেপ্টর লেয়ার। এটি মোট সরঞ্জাম অধিগ্রহণ খরচের প্রায় ৭০ শতাংশ এবং প্রকল্পের সামগ্রিক ব্যয়ের অন্তত ৬০ শতাংশ দখল করবে। আধুনিক প্রযুক্তির এই স্তরটি মহাকাশ থেকেই ধেয়ে আসা শত্রুর মিসাইল শনাক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হবে।

কারণ ও প্রভাব

ইসরায়েল যেভাবে সফলভাবে ইরান এবং তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর আক্রমণ রুখে দিচ্ছে, ট্রাম্পের এই প্রকল্প সেই সফলতাকে আমেরিকার প্রেক্ষাপটে বড় পরিসরে বাস্তবায়ন করতে চায়। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিশাল ব্যয়ের বোঝা মার্কিন অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদী চাপ তৈরি করতে পারে। একদিকে যেমন এটি জাতীয় নিরাপত্তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে, অন্যদিকে বিশাল বাজেটের সংস্থান এবং প্রযুক্তির নিখুঁত প্রয়োগ পেন্টাগনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। আগামী দুই দশকে এই খরচ মার্কিন বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতের বিন্যাসকে আমূল বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *