৫৮ ঘণ্টা চুম্বনের বিশ্বরেকর্ড, তবুও শেষরক্ষা হলো না এক্কাচাই-লাকসানার ১২ বছরের সংসারে!

২০১৩ সালে টানা ৫৮ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড ঠোঁটে ঠোঁট রেখে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন থাইল্যান্ডের দম্পতি এক্কাচাই এবং লাকসানা তিরানারাত। গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের কঠিন সব নিয়ম মেনে টানা দুই দিনের বেশি সময় চুম্বনরত অবস্থায় থেকে ইতিহাস গড়েছিলেন তারা। তবে সেই দীর্ঘতম চুম্বনের উষ্ণতাও শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখতে পারল না তাদের সম্পর্ক। দীর্ঘ ১২ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টেনে সম্প্রতি বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন এই বিশ্বখ্যাত যুগল।
রেকর্ড গড়ার নেপথ্যে ছিল এক অদ্ভুত লড়াই
এক্কাচাই ও লাকসানার এই যাত্রা শুরু হয়েছিল অনেকটা আকস্মিকভাবেই। সে সময় লাকসানা কেবল অসুস্থতা কাটিয়ে উঠেছিলেন এবং এক্কাচাই চেয়েছিলেন স্ত্রীকে নিয়ে কিছুটা অবসর সময় কাটাতে। মূলত একটি হিরের আংটি এবং বড় অঙ্কের পুরস্কারের আকর্ষণে তারা প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তবে ২০১১ সালে গড়া নিজেদেরই ৪৬ ঘণ্টার রেকর্ড ভেঙে ২০১৩ সালে তারা যে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন, তা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তৈরি করেছিল। বাথরুমে যাওয়া থেকে জলপান—সবই করতে হয়েছিল নিরবচ্ছিন্ন শারীরিক সংযোগ বজায় রেখে।
বিচ্ছেদ হলেও বজায় থাকছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এক্কাচাই নিজেই তাদের বিচ্ছেদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সম্পর্কের অবসান ঘটলেও একে অপরের প্রতি কোনো তিক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে তারা যৌথভাবে অভিভাবকত্বের দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এক্কাচাইয়ের মতে, সেই রেকর্ড তাদের জীবনের একটি গৌরবময় অধ্যায় এবং সেই অমূল্য স্মৃতিগুলো তিনি আজীবন লালন করতে চান।
ইতিহাসের পাতায় অম্লান সেই মুহূর্ত
বর্তমানে গিনেস কর্তৃপক্ষ এই বিভাগটি বাতিল করে দিলেও এক্কাচাই ও লাকসানার নাম রেকর্ডের পাতায় স্থায়ীভাবে খোদাই করা আছে। যে প্রেম এক সময় বিশ্বমঞ্চে সহনশীলতা ও আবেগের চরম পরীক্ষা দিয়েছিল, বাস্তব জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতে তার সুর কাটলেও সেই ৫৮ ঘণ্টার মহাকাব্যিক মুহূর্তটি আজও অনুরাগী ও সাধারণ মানুষের কাছে এক বিস্ময়কর উদাহরণ হয়ে রয়ে গেছে। বিচ্ছেদের এই সংবাদ অনেককে ব্যথিত করলেও, দুজন মানুষের পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে আলাদা হওয়াকে আধুনিক সম্পর্কের একটি পরিণত রূপ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
