ভারতের কিছু হলো না, তবে পাকিস্তানে আগুন কেন? শাহবাজ সরকারকে তুলোধোনা ফজল-উর-রহমানের – এবেলা

ভারতের কিছু হলো না, তবে পাকিস্তানে আগুন কেন? শাহবাজ সরকারকে তুলোধোনা ফজল-উর-রহমানের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বর্তমানে টালমাটাল বিশ্ব রাজনীতি। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এশীয় দেশগুলোতে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই আন্তর্জাতিক অস্থিরতার দোহাই দিয়ে পাকিস্তানে আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি হলেও প্রতিবেশী দেশগুলোতে তার প্রভাব না থাকা নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন জমিয়ত উলেমা-ই-ইসলামের (এফ) প্রধান মৌলানা ফজলুর রহমান। পাকিস্তানের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে দাঁড়িয়ে তিনি শাহবাজ শরিফ সরকারকে তুলোধোনা করে দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন।

প্রতিবেশী দেশগুলোর স্থিতিশীলতা ও পাকিস্তানের বৈপরীত্য

মৌলানা ফজলুর রহমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারতের জাহাজ চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অথচ সেখানে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এমনকি ইরান ও আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোতেও যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব বা অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি চোখে পড়ছে না। ফজলুর রহমানের দাবি, যদি প্রতিবেশী দেশগুলো এই সংকট মোকাবিলা করতে পারে, তবে কেন শুধুমাত্র পাকিস্তানেই দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে? তিনি সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জানতে চান, সংকটের এই মুহূর্তে দেশের অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা আসলে কোথায় নিখোঁজ হয়ে গেলেন।

সংসদীয় আলোচনা ও জবাবদিহিতার দাবি

দেশের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য অবিলম্বে সংসদের ‘ইন-ক্যামেরা’ অধিবেশন ডাকার প্রস্তাব দিয়েছেন মৌলানা ফজলুর রহমান। সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদ যদি প্রকৃত অর্থেই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে, তবে কেন সেখানে খোলামেলা আলোচনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। অর্থনৈতিক মন্দা ও মুদ্রাস্ফীতির প্রকৃত কারণ নিয়ে সরকার কেন জনসমক্ষে মুখ খুলছে না, তা নিয়েও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সংকটের চেয়েও অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা এবং নড়বড়ে অর্থনৈতিক নীতিই পাকিস্তানের এই পরিস্থিতির জন্য প্রধানত দায়ী, যা এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *