জঙ্গিদের মদত দিচ্ছে ড্রাগন! চিনের মুখোশ খুলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কড়া হুঁশিয়ারি ভারতের – এবেলা

জঙ্গিদের মদত দিচ্ছে ড্রাগন! চিনের মুখোশ খুলে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কড়া হুঁশিয়ারি ভারতের – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

পহেলগাঁ হামলার জবাবে ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’ এবং চিনের পাকিস্তান-প্রীতি নিয়ে এবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে সরব হলো নয়াদিল্লি। ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তৈরি হওয়া তীব্র সামরিক উত্তেজনার সময় বেজিং যে সরাসরি ইসলামাবাদকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিল, সেই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই চিনের বিরুদ্ধে কঠোর কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।

চিনা সহায়তার স্বীকারোক্তি ও ভারতের প্রতিক্রিয়া

সম্প্রতি চিনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘সিসিটিভি’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চেংদু এয়ারক্রাফ্ট ডিজাইন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের একজন ইঞ্জিনিয়ার দাবি করেন, গত বছরের মে মাসে চলা চার দিনের সামরিক সংঘাতের সময় চিন পাকিস্তানকে উন্নত ড্রোন ও যুদ্ধবিমান সংক্রান্ত কারিগরি সাহায্য প্রদান করেছিল। এই খবরের প্রেক্ষিতে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানান, ভারতের কাছে এই তথ্যগুলো আগে থেকেই ছিল। তিনি বলেন, পহেলগাঁ জঙ্গি হামলার পালটা জবাবে ভারত যে ‘অপারেশন সিন্দুর’ পরিচালনা করেছিল, তা ছিল সম্পূর্ণ সুনির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত। এর মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস করা।

বিশ্বস্ততা নিয়ে প্রশ্ন এবং কূটনৈতিক বার্তা

ভারতের পক্ষ থেকে চিনের এই দ্বিমুখী নীতিকে ধুয়ে দিয়ে জানানো হয়েছে, যারা নিজেদের ‘দায়িত্বশীল বিশ্বশক্তি’ হিসেবে দাবি করে, তাদের আচরণে তার প্রতিফলন থাকা জরুরি। নয়াদিল্লির মতে, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র যখন প্রকাশ্যে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোকে সুরক্ষা দেয় বা পরোক্ষভাবে মদত জোগায়, তখন আন্তর্জাতিক মহলে সেই রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভারতের এই কড়া প্রতিক্রিয়ার লক্ষ্য মূলত বেজিংকে এটি বুঝিয়ে দেওয়া যে, প্রতিবেশীর সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে ইন্ধন দেওয়া কোনো দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের কাজ হতে পারে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই অবস্থান চিনের প্রতি এক শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা। পাকিস্তানের জঙ্গি পরিকাঠামো রক্ষায় চিনের এই প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে যেমন বিঘ্নিত করছে, তেমনই আন্তর্জাতিক স্তরে চিনের মর্যাদাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ভারতের এই স্পষ্ট অবস্থানের ফলে আগামী দিনে সীমান্ত ও দ্বিপাক্ষিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *