ভবানীপুরে হারের পর এবার লক্ষ্য বহরমপুর! ইউসুফ পাঠানকে সরিয়ে কি দিল্লি পাড়ি দিচ্ছেন মমতা? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে এবার সর্বভারতীয় রাজনীতির ময়দানে নতুন চাল চালতে চলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন, ভবানীপুরে হারের গ্লানি মুছতে এবং নিজের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা টিকিয়ে রাখতে লোকসভার পথ বেছে নিতে পারেন তিনি। আর এই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর আসনটি। নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর, বর্তমান সাংসদ ইউসুফ পাঠানকে পদত্যাগ করিয়ে সেই উপ-নির্বাচনে নিজেই প্রার্থী হতে পারেন তৃণমূল নেত্রী।
ইউসুফ পাঠানের আসনত্যাগ এবং রাজনৈতিক সমীকরণ
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুরের দীর্ঘদিনের কংগ্রেস দুর্গ ভেঙে জয়ী হয়েছিলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান। অধীর রঞ্জন চৌধুরীর মতো হেভিওয়েট নেতাকে হারিয়ে তিনি তৃণমূলের ‘তুরুপের তাস’ হিসেবে প্রমাণিত হন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লির রাজনীতিতে মমতার উপস্থিতি জরুরি মনে করছেন দলের কৌশলী গোষ্ঠী। ফলে ইউসুফ পাঠানকে সরিয়ে মমতাকে সেখানে প্রার্থী করার পরিকল্পনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও একজন জনপ্রিয় জয়ী সাংসদকে এভাবে সরিয়ে দেওয়া স্থানীয় ভোটার বা ইউসুফ অনুরাগীদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে দলের অন্দরেই সংশয় তৈরি হয়েছে। একে অনেকেই ইউসুফ পাঠানের ‘রাজনৈতিক বলিদান’ হিসেবেও দেখছেন।
বিজেপির উত্থান ও কঠিন চ্যালেঞ্জ
মমতার এই যাত্রা মোটেও কণ্টকমুক্ত নয়। বহরমপুরের রাজনৈতিক চরিত্র দ্রুত পাল্টাচ্ছে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে এই অঞ্চলে বিজেপির সুব্রত মৈত্রর জয় প্রমাণ করেছে যে পদ্ম শিবিরের ভিত্তি সেখানে যথেষ্ট মজবুত হয়েছে। মমতা যদি সেখান থেকে লড়াই করেন, তবে বিজেপি বিষয়টিকে ‘পরাজিত মুখ্যমন্ত্রী’ বনাম ‘স্থানীয় মুখ’ হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ পাবে। বিধানসভায় হারের পর মমতার ভাবমূর্তি যে ধাক্কা খেয়েছে, তা পুনরুদ্ধারে বহরমপুর একটি বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।
অস্তিত্বের লড়াই ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, এটি মমতার জন্য স্রেফ একটি নির্বাচন নয়, বরং রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। একদিকে কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক নিজের দিকে টানার চেষ্টা, অন্যদিকে বিজেপির ক্রমবর্ধমান শক্তিকে রুখে দেওয়া—এই দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে বহরমপুরের পিচ। যদি এই বাজি সফল হয়, তবে জাতীয় রাজনীতিতে মমতার অবস্থান পুনরায় সুসংহত হবে। কিন্তু ফলাফল আশানুরূপ না হলে, তা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বহরমপুরের সাধারণ মানুষ কি ‘বহিরাগত’ তকমা ঝেড়ে ফেলে মমতাকে আপন করে নেবে, নাকি বিজেপির দিকে আরও বেশি ঝুঁকবে, তার ওপরই নির্ভর করছে বাংলার রাজনীতির আগামী গতিপথ।
