হার্ট অ্যাটাক কি হুট করেই আসে? শরীরের দেওয়া এই ৫টি সংকেত ভুলেও অবহেলা করবেন না – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হৃদরোগ। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রাথমিক সতর্কতাগুলোকে সাধারণ শারীরিক অস্বস্তি ভেবে এড়িয়ে যাওয়ার ফলে তৈরি হচ্ছে ভয়াবহ ঝুঁকি। চিকিৎসকদের মতে, হার্ট অ্যাটাক মানেই কেবল তীব্র বুক ব্যথা নয়, বরং শরীর আগে থেকেই কিছু সূক্ষ্ম সংকেত দিতে শুরু করে।
ঝুঁকির নেপথ্যে যে কারণগুলো
হৃদরোগ হুট করে আসে না, বরং জীবনযাত্রার নানা ত্রুটির কারণে ধীরে ধীরে দানা বাঁধে। উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস এবং স্থূলতা হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া ধূমপান, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাব রক্তনালীতে চর্বি বা ‘প্লাক’ জমতে সাহায্য করে। এই প্লাক জমে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলেই হার্ট অ্যাটাকের পথ প্রশস্ত হয়।
সতর্ক হওয়ার ৫টি লক্ষণ
হার্ট অ্যাটাক হওয়ার কয়েক দিন বা সপ্তাহ আগে থেকেই শরীরে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়:
- বুকে অস্বস্তি: বুকের মাঝখানে চাপ অনুভব করা, ভারী হওয়া বা জ্বালাপোড়া করা। এই অস্বস্তি কিছুক্ষণ পর পর ফিরে আসতে পারে।
- অকারণ ক্লান্তি: কোনো কাজ না করেই চরম দুর্বলতা বোধ করা, যা বিশেষত নারীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়।
- শ্বাসকষ্ট: অল্প হাঁটলে বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় হাঁপিয়ে যাওয়া হৃদপিণ্ডের দুর্বলতার লক্ষণ।
- মাথা ঘোরা: মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়ার ফলে হঠাৎ মাথা ঘোরা বা ভারসাম্যহীনতা তৈরি হতে পারে।
- অতিরিক্ত ঘাম: ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় বা এসি রুমে থেকেও হঠাৎ ঘাম হওয়া এবং সেই সাথে বমি বমি ভাব হার্ট অ্যাটাকের অশনি সংকেত।
ব্যথা ছড়াতে পারে শরীরের অন্যান্য অংশেও
অনেকে বুক ব্যথা না হলে হৃদরোগের কথা ভাবেন না, যা একটি ভুল ধারণা। হার্ট অ্যাটাকের ব্যথা চোয়াল, ঘাড়, গলা কিংবা পিঠের ওপরের অংশেও অনুভূত হতে পারে। এছাড়া বাম হাত বা দুই হাতেই ব্যথা হওয়া এবং বদহজমের মতো সমস্যাকে অ্যাসিডিটি ভেবে অবহেলা করা প্রাণঘাতী হতে পারে।
প্রতিরোধ ও খাদ্যাভ্যাস
হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে ভাজা পোড়া খাবার, অতিরিক্ত লবণ, চিনিযুক্ত পানীয় এবং লাল মাংস (রেড মিট) বর্জন করা জরুরি। পরিবর্তে খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসবজি, ফলমূল, ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ এবং ফ্ল্যাক্স সিড রাখা প্রয়োজন। জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের জন্য প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা ব্যায়াম করা, ধূমপান ত্যাগ করা এবং নিয়মিত রক্তচাপ ও সুগার পরীক্ষা করা আবশ্যক। সঠিক সময়ে সচেতনতাই পারে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমিয়ে জীবন রক্ষা করতে।
