কলকাতায় বাড়ছে বাল্যবিবাহ, ৩০০ পকসো মামলা নিয়ে পুলিশকে কড়া বার্তা নগরপালের

কলকাতায় বাড়ছে বাল্যবিবাহ, ৩০০ পকসো মামলা নিয়ে পুলিশকে কড়া বার্তা নগরপালের

শহর কলকাতায় নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি। একইসঙ্গে পকসো আইনের অধীনে থাকা প্রায় ৩০০ মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। সম্প্রতি আলিপুর বডিগার্ড লাইনে লালবাজারের শীর্ষ আধিকারিক ও প্রতিটি থানার ওসিদের নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে নাবালিকাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অত্যন্ত কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। কমিশনার স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিলোত্তমার বুকে বাল্যবিবাহ রোধে এবং নারী সুরক্ষায় পুলিশকে আরও অনেক বেশি সক্রিয় ও আপসহীন হতে হবে।

তদন্তে গতি ও আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ

লালবাজারের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে শহরে প্রায় ৩০০টি পকসো মামলার নিষ্পত্তি ঝুলে রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো চার্জশিট বা অভিযোগপত্র জমা না পড়ায় অভিযুক্তরা সহজেই জামিন পেয়ে যাচ্ছে, যা তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি থানার ওসিদের কমিশনার নির্দেশ দিয়েছেন, তদন্তের কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। একইসঙ্গে ফরেনসিক বিভাগের পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে আদালতে চার্জশিট পেশ করা সম্ভব হয়।

সচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা

নগরপাল আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে, রাজা রামমোহন রায়ের শহর কলকাতায় আজও নাবালিকাদের বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের অনিচ্ছায় নাবালিকারা পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করলেও অধিকাংশ ঘটনা পুলিশের অগোচরেই থেকে যাচ্ছে। অনেক সময় সন্তান প্রসবের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকদের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসছে। এই ধারা রুখতে পুলিশকে শুধু আইনি ব্যবস্থা নয়, বরং সামাজিক নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে পুলিশকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন নগরপাল। মূলত বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন ও পকসো আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমেই এই সমস্যা নির্মূল করতে চাইছে লালবাজার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *