আইনজীবীর বেশে হাই কোর্টে মমতা! ভোট-পরবর্তী অশান্তি মামলায় প্রধান বিচারপতির এজলাসে সওয়াল – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘ কয়েক দশক পর আবারও ফিরে এলেন আইনজীবীর ভূমিকায়। বৃহস্পতিবার সকালে কালো কোট ও শামলা পরে কলকাতা হাই কোর্টে উপস্থিত হয়ে তিনি সরাসরি সওয়াল করেন প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে। নির্বাচন-পরবর্তী অশান্তি সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলায় রাজ্যের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আদালতের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তৃণমূলনেত্রী। ১৯৮৫ সালে বার কাউন্সিলে নাম নথিভুক্ত করা মমতা এদিন প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে জানান, রাজ্যে নারী ও শিশুদের ওপর অত্যাচার এবং ঘরবাড়ি লুটের মতো ঘটনা ঘটছে, যা নিয়ে পুলিশ নিষ্ক্রিয়।
আদালতে মমতার আর্তি ও পাল্টাপাল্টি সওয়াল
এজলাসে সওয়াল করার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের পর থেকে বিবাহিত মহিলাদের ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং নির্বিচারে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। একে ‘বুলডোজার রাজ্য’ নয় বরং পশ্চিমবঙ্গ উল্লেখ করে তিনি রাজ্যবাসীকে বাঁচানোর অনুরোধ জানান। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের আইনজীবী ধীরাজ ত্রিবেদী এই অভিযোগগুলিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি পাল্টা সওয়াল করেন যে, পুলিশ সতর্ক রয়েছে এবং নির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া আদালত যেন কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি না করে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী পরিস্থিতিতে এই আইনি লড়াই রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে বিজেপি বর্তমানে সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে থাকলেও, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতার এই সরাসরি আইনি পদক্ষেপ তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল চাঙ্গা করার প্রচেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে। হাই কোর্টের এই মামলার গতিপ্রকৃতি আগামী দিনে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক মেরুকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা এই জনস্বার্থ মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।
