আপনার আগে দালালরা কীভাবে টিকিট পায়? ফাঁস হলো বুকিং সিস্টেমের আসল অন্ধকার রহস্য – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
নিশ্চিত ট্রেনের টিকিট কি জাদুর খেলা নাকি কোনো বিশেষ ফন্দি! সাধারণ যাত্রীরা যখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আইআরসিটিসি (IRCTC) অ্যাপ বা জানালার সামনে দাঁড়িয়েও একটি কনফার্মড টিকিট পেতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন দালাল চক্রের হাতে খুব সহজেই পৌঁছে যাচ্ছে নিশ্চিত আসন। সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগের নেপথ্যে রয়েছে দালালদের সুনিপুণ কৌশল এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার।
প্রযুক্তির কারসাজি ও তৎকাল কোটার দখল
দালালদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো বিশেষ ধরনের অটোমেশন সফটওয়্যার। সাধারণ মানুষ যখন ধীরগতিতে নাম, ঠিকানা বা ক্যাপচা পূরণ করেন, তখন দালালরা স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে চোখের পলকেই এই ধাপগুলো পেরিয়ে যান। ফলে সাধারণ যাত্রীরা লগ-ইন করার আগেই তৎকাল বা সাধারণ কোটার সিংহভাগ টিকিট বুক হয়ে যায়। এছাড়া তারা অসংখ্য ফেক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে একই সময়ে বিভিন্ন রুট ও তারিখের জন্য বিপুল পরিমাণ টিকিট বুক করে রাখে, যা সাধারণের জন্য সিট পাওয়া প্রায় আসাম্ভব করে তোলে।
অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ ও অপেক্ষমাণ তালিকার কৌশল
দালাল চক্রের সাফল্যের পেছনে অনেক সময় রেলের বুকিং এজেন্ট বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে গোপন আঁতাতের অভিযোগ ওঠে। ট্রেনের আসনের প্রাপ্যতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের আগে তথ্য পাওয়া বা ব্যাক-এন্ড ডেটা ব্যবহারের সুযোগ তাদের এই ব্যবসায় বাড়তি সুবিধা দেয়। এছাড়া ওয়েটিং লিস্ট বা অপেক্ষমাণ তালিকার টিকিটকে কীভাবে কৌশলী বাতিলকরণ ও পুনঃবুকিংয়ের মাধ্যমে কনফার্মড করা যায়, সেই কারিগরি বিদ্যাতেও তারা পারদর্শী।
প্রভাব ও সংকটের স্বরূপ
এই অসাধু চক্রের সক্রিয়তার ফলে কৃত্রিম সংকটের মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। জরুরি প্রয়োজনে বাড়ি যাওয়া বা অসুস্থ রোগীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে উচ্চমূল্যে দালালের কাছ থেকে টিকিট কেনা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকছে না। যদিও রেল কর্তৃপক্ষ এই অটোমেটিক সফটওয়্যার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং মাঝেমধ্যে ধরপাকড় চালাচ্ছে, তবুও প্রযুক্তিগত লুপহোল ব্যবহার করে দালালরা তাদের দাপট বজায় রাখছে। এর ফলে রেলের টিকিট বুকিং ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনি সাধারণ যাত্রীদের পকেট কাটা যাচ্ছে প্রতিনিয়ত।
