সাবধান! হোয়াটসঅ্যাপে ‘ম্যাজিক’ ফিচারের আড়ালে ওত পেতে আছে বিপদ, অজান্তেই খালি হতে পারে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে হোয়াটসঅ্যাপের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। আর এই জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করেই বর্তমানে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস, জিবি হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা এফএম হোয়াটসঅ্যাপের মতো একগুচ্ছ ‘মোডেড অ্যাপ’। নজরকাড়া সব অতিরিক্ত ফিচারের প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করা এই অ্যাপগুলো আসলে এক একটি মারণফাঁদ। সম্প্রতি মেটা (Meta) স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে যে, এই ধরনের আনঅফিসিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করলে ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ বা ব্যান হতে পারে।
অতিরিক্ত ফিচারের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বিপদ
হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস বা এই জাতীয় অ্যাপগুলো মূলত অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপের কোড কপি করে তৈরি করা। ডিলিট করা মেসেজ দেখা, লাস্ট সিন ফ্রিজ করা কিংবা হাজার হাজার রঙিন থিম ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে এগুলো সাধারণ ব্যবহারকারীদের প্রলুব্ধ করে। তবে এই ‘ফ্রি’ ফিচারের আড়ালে রয়েছে বিশাল ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, গুগল প্লে-স্টোর বা অ্যাপল অ্যাপ স্টোরে এই অ্যাপগুলো না থাকার প্রধান কারণ এদের দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ২০২৪ সালের এক রিপোর্ট বলছে, অধিকাংশ মোডেড হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষতিকারক ‘ট্রোজান ম্যালওয়্যার’ পাওয়া গেছে, যা স্মার্টফোনের নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারদের হাতে তুলে দিতে পারে।
ব্যক্তিগত তথ্য চুরি ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা
অফিশিয়াল হোয়াটসঅ্যাপে ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ থাকলেও থার্ড পার্টি এই অ্যাপগুলোতে সেই সুরক্ষা নেই। ফলে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত চ্যাট, ওটিপি (OTP), এমনকি ব্যক্তিগত ছবিও থার্ড পার্টি সার্ভারের মাধ্যমে হ্যাকারদের কাছে পৌঁছে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। এর ফলে একদিকে যেমন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি হওয়ার ঝুঁকি থাকে, অন্যদিকে ব্যক্তিগত তথ্য ডার্ক ওয়েবে বিক্রি হওয়ার ভয়ও থেকে যায়। এছাড়া, আইনি জটিলতার ক্ষেত্রেও ব্যবহারকারী বিপদে পড়তে পারেন, কারণ এই অ্যাপগুলো কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করে তৈরি।
সুরক্ষিত থাকার উপায়
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেটা ব্যবহারকারীদের শুধুমাত্র অফিশিয়াল অ্যাপ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছে। যদি কেউ ভুলবশত এই ধরনের মোডেড অ্যাপ ইনস্টল করে থাকেন, তবে দ্রুত সেগুলো আনইনস্টল করে প্লে-স্টোর থেকে আসল হোয়াটসঅ্যাপ ডাউনলোড করা জরুরি। একইসঙ্গে ফোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাংকিং পাসওয়ার্ড পরিবর্তন এবং মোবাইল স্ক্যান করা প্রয়োজন। মনে রাখা জরুরি, সামান্য কিছু বাড়তি ফিচারের লোভে নিজের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আজীবনের ডিজিটাল পরিচয় বা অ্যাকাউন্টটি হারানো কোনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
