পুলিশের জালে নয়, ইডির হাতে খোদ ডিসি! ১০ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরার পর গ্রেফতার শান্তনু – এবেলা

পুলিশের জালে নয়, ইডির হাতে খোদ ডিসি! ১০ ঘণ্টার ম্যারাথন জেরার পর গ্রেফতার শান্তনু – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

সোনা পাপ্পু প্রতারণা মামলায় নাটকীয় মোড় নিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) তদন্ত। বৃহস্পতিবার কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করা হলো কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে। বর্তমানে ডিরেক্টর সিকিওরিটি কন্ট্রোলে কর্মরত এই উচ্চপদস্থ পুলিশকর্তার গ্রেফতারিতে রাজ্য পুলিশ মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি সঠিক তথ্য গোপন করছিলেন এবং তদন্তে লাগাতার অসহযোগিতা করে যাচ্ছিলেন।

ডায়েরি ও চ্যাটে লুকানো রহস্য

ইডি সূত্রের দাবি, ব্যবসায়ী জয় কামদারের ডায়েরি এবং মোবাইল চ্যাট থেকে এই মামলার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গিয়েছে। সেখানে বারংবার ‘শান্তনু স্যার’ বা ‘শান্তনুদা’ নামের উল্লেখ এবং বিভিন্ন উপহার আদান-প্রদানের তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, জমি ও বাড়ি দখলের মতো বেআইনি কারবারে পর্দার আড়াল থেকে সরাসরি মদত জোগাতেন এই পুলিশকর্তা। তদন্তকারী সংস্থা আগেই তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিশ জারি করেছিল, যা ইঙ্গিত দিচ্ছিল যে তাঁর ওপর নজরদারি ছিল দীর্ঘদিনের।

প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের জাল

তদন্তে উঠে আসা সবচেয়ে বিস্ফোরক তথ্য হলো আর্থিক লেনদেনের ধরন। কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের দুই পুত্রের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জয় কামদারের সংস্থা থেকে লক্ষাধিক টাকার লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। এমনকি সন্দেহজনকভাবে ফ্ল্যাট কেনার হদিসও পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, জয় কামদারের উপার্জিত বেআইনি কালো টাকা এই পুলিশকর্তার পরিবারের মাধ্যমেই কৌশলে বাজারে খাটানো হয়েছে।

এই গ্রেফতারি দুর্নীতি চক্রের শিকড় আরও গভীরে থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। গ্রেফতারকৃত পুলিশকর্তাকে শুক্রবার আদালতে পেশ করা হতে পারে এবং নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই চক্রের অন্যান্য প্রভাবশালীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে চায় ইডি। সূত্র অনুযায়ী, সোনা পাপ্পু কাণ্ডে এই হেভিওয়েট গ্রেফতারি আগামী দিনে আরও বড় কোনো প্রশাসনিক রদবদল বা নতুন কোনো ধরপাকড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *