ভোট ফুরোলেই কি পকেট সাফ? পেট্রোল-ডিজেলে ৩ টাকা বাড়তেই ফুঁসছে বিরোধীরা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
দেশজুড়ে লোকসভা নির্বাচনের দামামা থামতে না থামতেই সাধারণ মানুষের পকেট কাটতে শুরু করেছে মহার্ঘ জ্বালানি। শুক্রবার থেকে দেশজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৩ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। একইসাথে সিএনজি-র দামও বেড়েছে ২ টাকা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পাঁচ দিনের বিদেশ সফর শুরু হওয়ার দিনেই এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা আসায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। বিরোধীদের দাবি, নির্বাচন শেষ হতেই সরকার সাধারণ মানুষের ওপর ‘বসুনি’ বা আদায়ের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে।
সরব বিরোধী শিবির ও সাইকেলই বিকল্প বার্তা
জ্বালানির দাম বাড়ার সাথে সাথেই তোপ দেগেছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। সামাজিক মাধ্যমে তিনি মন্তব্য করেছেন, এই পরিস্থিতিতে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ‘সাইকেলই একমাত্র বিকল্প’। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা ইমরান প্রতাপগড়হি কটাক্ষ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিদেশে যাওয়ার সময় দেশবাসীকে মুদ্রাস্ফীতির ‘উপহার’ দিয়ে গেলেন। তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এই মূল্যবৃদ্ধিকে পূর্বপরিকল্পিত বলে অভিহিত করে জানান, মানুষের ভোট নেওয়ার পর সরকার সেখানেই আঘাত করছে যেখানে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়। শিবসেনা সাংসদ প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী টাকার দামের পতন এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন— টাকা, ডিজেল নাকি পেট্রোল, কে আগে সেঞ্চুরি হাঁকাবে?
গভীর হতে পারে মুদ্রাস্ফীতির সংকট
জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল পরিবহণ খাতের ওপর নয়, বরং গোটা বাজার ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই আমূল এবং মাদার ডেয়ারির মতো সংস্থাগুলি দুধের দাম লিটার প্রতি ২ টাকা করে বাড়িয়েছে। এখন পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ার ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের পরিবহণ খরচ বাড়বে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে সাধারণ মানুষের হেঁশেলে। সব মিলিয়ে মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার ব্যয় যে আরও কয়েক গুণ বাড়তে চলেছে, তা নিয়ে কোনও দ্বিমত নেই বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।
