চার দশকের আনুগত্যের এই পুরস্কার? পদ হারিয়ে মমতাকে বিঁধলেন কাকলি! – এবেলা

চার দশকের আনুগত্যের এই পুরস্কার? পদ হারিয়ে মমতাকে বিঁধলেন কাকলি! – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদীয় দলের অন্দরে বড়সড় রদবদলের জেরে এবার প্রকাশ্যে এল দীর্ঘদিনের দলীয় কোন্দল ও অভিমান। লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের পদ থেকে বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে দিয়ে ফের শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই দায়িত্ব ফিরিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই সিদ্ধান্তের পরেই সামাজিক মাধ্যমে নিজের হতাশা ও অনুযোগ উগরে দিয়েছেন কাকলি, যা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

সাংসদ পদের রদবদল ও কাকলির অভিমান

বৃহস্পতিবার কালীঘাটে দলের সাংসদদের নিয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই রদবদলের ঘোষণা করেন। এরপরই কাকলি ঘোষ দস্তিদার তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে লেখেন, ১৯৭৬ সাল থেকে তাঁর মমতার সঙ্গে পরিচয় এবং ১৯৮৪ সাল থেকে একসাথে পথ চলা শুরু। চার দশকের এই আনুগত্যের পর পদ হারানোকে তিনি বিদ্রুপাত্মকভাবে ‘পুরস্কার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর ফলে সংসদীয় দলে কাকলির বর্তমানে আর কোনও বিশেষ পদ থাকল না, যা তাঁকে চরম হতাশায় ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

দলের অন্দরে অস্থিরতা ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের বিপর্যয়ের পর থেকেই দলের অভ্যন্তরে ফাটল দেখা দিতে শুরু করেছে। একদিকে কুণাল ঘোষের মতো নেতারা যেমন দলের পুরনো রণকৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তেমনই অন্যদিকে কাকলির মতো প্রবীণ নেত্রীর এই প্রকাশ্য ক্ষোভ দলের অস্বস্তি আরও বাড়াল। যদিও শ্রীরামপুর ও বারাসাত— দুই কেন্দ্রেই বিধানসভা স্তরে দলের ফল আশানুরূপ হয়নি, তবুও কেন হঠাৎ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুরনো পদে ফেরানো হলো এবং কাকলিকে অপসারিত করা হলো, তার সঠিক কারণ এখনও অস্পষ্ট। এই ঘটনা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি পুরনো কর্মীদের আস্থায় চির ধরাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *