আরজি কর কাণ্ডে ৩ পুলিশ কর্তা সাসপেন্ড: ‘মমতার কেন জেল হবে না?’ বিস্ফোরক নির্যাতিতার বাবা-মা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ
আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসককে নৃশংস ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এবার বড়সড় মোড় নিল রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি। কর্তব্যে গাফিলতি, তদন্তে অনিয়ম এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্ত—এই তিন উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছে রাজ্য সরকার। এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের পরেই নতুন করে সরব হয়েছেন নির্যাতিতার বাবা-মা। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলে তাঁর গ্রেফতারির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানে নির্যাতিতার পরিবার যেমন বিচারের নতুন আলো দেখছে, তেমনই তৎকালীন শাসকদলের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় বিতর্ক।
পরিবারের বিস্ফোরক অভিযোগ ও বিচারের নতুন আশা
তিন পুলিশ আধিকারিক সাসপেন্ড হতেই নির্যাতিতার পরিবার অভিযোগ করেছে যে, আগের সরকার ইচ্ছাকৃতভাবেই অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করেছিল। নির্যাতিতার বাবার দাবি, ঘটনার পর হাসপাতালে গিয়ে মেয়ের মুখ পর্যন্ত দেখতে দেওয়া হয়নি তাঁদের। তৎকালীন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলসহ যাদের বিরুদ্ধে এখন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আগেই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে উল্টে তাঁদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সিদ্ধান্তে আস্থা প্রকাশ করে তিনি জানান, এবার তদন্ত সঠিক পথে এগোবে। নির্যাতিতার মা-ও দাবি করেছেন, ঘটনার রাতে সেখানে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং কাদের নির্দেশে তথ্যপ্রমাণ চাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
প্রশাসনিক রদবদল ও তদন্তের সম্ভাব্য প্রভাব
এই পদক্ষেপের পর রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, আরজি কর মামলার তদন্ত সম্পূর্ণ নতুন করে শুরু হবে। বিগত তদন্তের সময়কার ফোন কল, হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন এবং প্রশাসনিক স্তরের সমস্ত যোগাযোগ খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষ করে, অপরাধ ঢাকতে তৎকালীন শীর্ষ মহলের কোনো রাজনৈতিক নির্দেশ ছিল কিনা, তা-ই এখন তদন্তের মূল বিষয়। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, শুধু সাসপেনশনেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকছে না, ওই তিন পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের অগস্ট মাসের এই নৃশংস ঘটনার পর যেভাবে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের ঝড় উঠেছিল, সরকারের এই নতুন পদক্ষেপের ফলে সেই ঘটনার নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের নাম এবার প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
